
পাবনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে যে রায় দেয়া হয়েছে এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ধসে পড়েছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর ভেঙে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্ষমতাকে স্থায়ী করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুচতুরভাবে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে। এসব মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, সেলিমা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার প্রমুখ।
মির্জা ফখরুল বলেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতার ট্রেনে হামলা সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতের এ রায় জাতিকে বিস্মিত, হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। আমরা যেকোনো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, আমরা সবসময়ই সন্ত্রাসের ঘটনায় নিন্দা করেছি, প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং সুষ্ঠু বিচার চেয়েছি।
‘কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চেয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে সংঘটিত হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় সব নেতাকর্মীকে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তিন বছর পর অভিযোগপত্র দিয়ে ২৫ বছর পর রায় দেয়া হলো।
‘এতে প্রমাণ হয়, এ রায় ন্যায়বিচার পরিপন্থী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি,’ যোগ করে মির্জা ফখরুল।
তিনি আরও বলেন, শুধু ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার জন্য একের পর এক গণতান্ত্রিক সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে, বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে চিরতরে নির্বাসিত করার আয়োজন সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণের আশ্রয়ের শেষস্থল বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা, একনায়কতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে।