
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী লোকের সংখ্যা এখনও কিছু কিছু রয়ে গেছে। তাদের প্রতি সহনুভুতিশীল ও সমর্থন জানায় এমন লোকও রয়েছে। সুনির্দিষ্ট হামলার তথ্য না থাকলেও সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
আজ সোমবার (০১ জুলাই) হলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা কথা বলেন।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী লোকের সংখ্যা এখনও কিছু কিছু রয়ে গেছে। তাদের প্রতি সহনুভুতিশীল ও সমর্থন জানায় এমন লোকও রয়েছে। ফলে তারা জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে কখনও কখনও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু সেটা যাতে না ওঠে সেজন্য আমরা নাগরিক উদযোগের আহবান জানিয়েছি। সঙ্গে আমাদের যে আইনি প্রক্রিয়া যেমন- অভিযান, গ্রেফতার এবং তাদের আদালতে সৌপর্দ করার মাধ্যমে জঙ্গিবাদের মতবাদকে পরাস্ত করে জঙ্গি হামলা ঠেকানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, পুনরায় জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার যে কোনো প্রচেষ্টা নৎসাত করে দেওয়া হবে। কারণ, দেশের মানুষ অসম্প্রদায় কালচারে বিশ্বাস করে। এখানে কখনও জঙ্গিবাদ আর মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
জঙ্গিবাদের ক্ষেত্রে আমরা কতটা ঝুঁকিতে এমন প্রশ্নে মনিরুল ইসলাম বলেন, বৈর্ষিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে আমরা বড় ধরণের ঝুঁকি দেখছি না। তবে ছোটখাটো জঙ্গি হামলার ঘটনাও যাতে বাংলাদেশে না ঘটে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট হামলার তথ্য না থাকলেও সকলকে সতর্ক থাকতে হবে এবং সমবেত চেষ্টার মাধ্যমে যে কোনো হামলার প্রচেষ্টাকে রুখে দিতে পারব।
অপর আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশি বংশভুত যারা ইরাক, সিরিয়ায় কথিত জিহাদে যোগদান করার জন্য গেছে তাদের সুর্নিদিষ্ট তথ্য পাওয়াটা খুবই কষ্টসাধ্য। কারণ সেখানে সেই রকম শাসন ব্যবস্থা বা যারা কাজ করছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুর্নিদিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন। তবে আমরা জানি, যারা গিয়েছিল তাদের অনেকে নিহত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে যারা সেখানে গিয়েছিল তাদের চিহিৃত করা হয়েছে। তারা দেশে প্রবেশ করতে চাইলে এন্ট্রি পয়েন্টে তাদের সনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসব। সেই কনফিডেনস আমাদের রয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশভুত যারা অনান্য দেশ থেকে গিয়েছে তাদের অধিকাংশ মারা গিয়েছে। তারপরও যদি কেউ ফেরত আসার চেষ্টা করে তাদের আমরা সনাক্ত করতে পারব। কারণ আমাদের ইমিগ্রেশনসহ সকল বিভাগ এই বিষয় নিয়ে কাজ করছে।
২০১৬ সালের আজকের রাতে গুলশানের কূটনৈতিক এলাকার হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় অস্ত্রধারী কয়েক যুবক আচমকা হামলা চালায়। হামলায় দেশি-বিদেশি ২০ নাগরিক, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ নিহত হন মোট ২২ জন। নিহতদের মধ্যে জাপানের নাগরিক, আর্জেন্টিনার নাগরিক, ইতালির নাগরিক ও ভারতের নাগরিক ছিলেন।
সেদিন রাতে অস্ত্রধারীরা রেস্টেুরেন্টে আসা সব অতিথি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাতভর জিম্মি করে রাখে। চরম উদ্বেগ ও নাটকীয়তার পর সেনা কমান্ডো অপারেশন থান্ডারবোল্ট চালানো হয়। এর মধ্যে দিয়ে জিম্মি ঘটনার অবসান হয়। কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জন। জীবিত উদ্ধার করা হয় ১৩ জিম্মিকে।