
বরগুনায় স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে স্বামী রিফাতকে হত্যার পরিকল্পনাকারীকে ঢাকা থেকে আটক করেছে পুলিশ। তার নাম সাগর।
সাগর বরগুনা সদর উপজেলার এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুল লতিফ মাস্টারের ছেলে। বর্তমানে তারা বরগুনা পৌরসভার পশ্চিম আমতলা পাড় সড়কের বাসিন্দা।
রোববার পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. সোহেল রানা সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিফাত হত্যার পরিকল্পনার কথোপকথনের বেশ কয়েকটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সেই স্ক্রিনশট দিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে।
রিফাত হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে মেসেঞ্জার গ্রুপ ০০৭-এর কথোপকথনের ভাইরাল হওয়া একটি স্ক্রিনশটে দেখা যায়, রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের দিন বুধবার সকাল আটটা ছয় মিনিটে রিফাত হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী গ্রুপে লেখেন ০০৭ এর সবাইকে কলেজে দেখতে চাই। এর উত্তরে মোহাম্মাদ নামে একজন লেখেন, কয়টায়। নয়ন ফরাজির লেখা ০০৭ এর সবাইকে কলেজে দেখতে চাই-এর উত্তরে বরগুনায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ মো. সাগর সম্মতিজ্ঞাপনসূচক এবং বিজয়ের প্রতীক ভি সিম্বল দিয়ে উত্তর দেন। এরপর মোহাম্মাদ আবার রিফাত ফরাজীকে ম্যানশন করে লেখেন কয়টায় ভাই। এরপর রিফাত ফরাজী উত্তর দেন নয়টার দিকে।
মো. সাগরের পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষার রোল নম্বর ১০৮। পিরোজপুর সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী শাহনেয়াজ, ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (লালমোহন সার্কেল) মো. রাসেলুর রহমান এবং বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন স্বাক্ষরিত বরগুনায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নামের মেধা তালিকায় ৪০ নম্বর পেয়ে ১৮তম স্থান অধিকার করেছিল সাগর।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, তাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিফাত শরীফ হত্যার পরিকল্পনাকারী গ্রুপের সদস্য সাগর কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে ইতিমধ্যে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আজ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল বরগুনা পুলিশলাইনে। সেই পরীক্ষা দেয়ার আগেই তাকে গ্রেফতার করা হলো।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, কোনো আবেদনকারী যদি ফৌজদারি মামলার আসামি হয়, তা হলে তার নিয়োগ আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায়। তার পুলিশে চাকরি করার সুযোগ নেই। সাগরের ক্ষেত্রেও এমনটি হবে।