
মঙ্গলবার দেশের কোথাও ১৪৪০ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে বৃহস্পতিবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোঃ আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাঁদ দেখা কমিটি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসে।
দু’ঘন্টার এ বৈঠকের পর ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের কোনো জায়গা থেকেই চাঁদ দেখা যাবার খবর পাওয়া যায় নি। সুতরাং বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর পালিত হবে।
দেরীতে ঘোষণার বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, যদিও নিয়ম অনুযায়ী বাদ মাগরিব চাঁদ দেখার ঘোষণা আসার কথা। কিন্তু দেশের খ্যাতিমান আলেম-ওলামার সাথে কথা বলে ভালভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে দেরী হয়ে গেছে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি কীভাবে সিদ্ধান্ত নেন?
মূল চাঁদ দেখা কমিটির সাথে একযোগে প্রতিটি জেলায় একটি করে কমিটি কাজ করে। দেশের কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সেটি স্থানীয় প্রশাসন বা ইসলামিক ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে জেলা কমিটির কাছে পৌঁছায়।
পরে জেলা প্রশাসন দ্রুত সেটি নিশ্চিত করে বিভিন্ন ভাবে- যেমন স্থানীয় অনেকে চাঁদ দেখেছে কি-না কিংবা স্থিরচিত্র বা ভিডিও চিত্র এসব দ্রুত সংগ্রহ করে নিশ্চিত হয়ে থাকে স্থানীয় প্রশাসন।
সেক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও ভালো দৃষ্টি শক্তিসম্পন্ন কাউকে চাঁদ দেখতে হবে।
পরে সে খবরটি যাচাই হয়ে জেলা কমিটি হয়ে কেন্দ্রীয় চাঁদ দেখা কমিটির হাতে পৌঁছায়।
একই সাথে আবহাওয়া অধিদফতরের দেশজুড়ে যে ৭৪টি স্টেশন আছে সেখান থেকেও তথ্য নেয় চাঁদ দেখা কমিটি।
যদি আবহাওয়া অনুকূল না থাকে অর্থাৎ খালি চোখে চাঁদ দেখার সুযোগ না থাকলে আবহাওয়া স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্যও চাঁদ দেশের আকাশে উঠেছে কি-না তা নিশ্চিত হতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়
রাজধানীসহ দেশের সর্বত্রই ঈদের নামাজের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায়। জাতীয় ঈদগাহে মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদের জামাত হবে।
দেশবাসীকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
বাসস জানায়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সোমবার এক বাণীতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ঈদ সবার মধ্যে গড়ে তোলে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ—এ প্রত্যাশা করি।’
পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসী ও বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে আত্মশুদ্ধি, সংযম, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন পরিব্যাপ্তি লাভ করুক—এটাই হোক ঈদ উৎসবের ঐকান্তিক কামনা। হাসি-খুশি ও ঈদের অনাবিল আনন্দে প্রতিটি মানুষের জীবন পূর্ণতায় ভরে উঠুক।