
ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন সানজানা নওরীন। প্রতিবছরই ছুটির সময় দেশের বাইরে বেড়াতে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
নওরীন জানান, তিনি সাধারণত তার স্বামীর সাথে ঘুরে বেড়ান এবং ভ্রমণের ক্ষেত্রে দুজনেই রোমাঞ্চকর জায়গা পছন্দ করেন। খবর বিবিসির।
তিনি বলেন, রাজস্থান, গোয়াসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছি। এবারের ঈদের ছুটিতে যাচ্ছি আন্দামান। যদিও ইন্দোনেশিয়ার বালি যাওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু প্লেনের টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঐ পরিকল্পনা বাতিল করতে হয়েছে।
গত কয়েক বছরে সানজানা নওরীনের মত মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত নাগরিকদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা বাড়ার সাথে সাথে দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণের প্রবণতাও বেড়েছে।
আর ঈদ, পূজা বা নববর্ষের মত উৎসবের মৌসুমে যখন কর্মস্থল থেকে কয়েকদিনের জন্য ছুটি মেলে, তখনই প্রিয়জন নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার চাহিদাটা থাকে সবচেয়ে বেশি।
যেরকম বলছিলেন বেসরকারি চাকরি করা সুমাইয়া হাসান, যিনি সাধারণত ছুটির সময় স্বামী-সন্তান নিয়ে ভ্রমণের সুযোগ হারান না।
চাকরিজীবী হিসেবে যে কোনো সময় ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রধান চিন্তা থাকে স্বামী-সন্তানের ছুটির সাথে আমার ছুটি মিলবে কিনা। তাই উৎসব-পার্বণের ছুটির সময় সাধারণত ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করি না।
তবে বিদেশে বেড়াতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত ঐতিহাসিক নিদর্শন-সমৃদ্ধ জায়গায় যাওয়াকেই বেশি পছন্দ করেন বলে জানান হাসান।
জনপ্রিয় গন্তব্য
বাংলাদেশের একটি ট্যুর অপারেটর বেঙ্গল ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, চিরাচরিত ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর পাশাপাশি গত কয়েক বছরে বেশকিছু নতুন স্থানেও বেড়াতে যাচ্ছে মানুষ।
বাংলাদেশের পাশ্ববর্তী দেশগুলোতে (ভারত, নেপাল, ভূটান) তো মানুষ সবসময়ই যেত। গত কয়েক বছরের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে মানুষের মধ্যে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে ভ্রমণ করতে যাওয়ার হার বেশ বেড়েছে। এছাড়া এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জাপান এবং চীনেও বাংলাদেশের মানুষের ভ্রমণের প্রবণতা বাড়ছে বলে জানান তিনি।
পাশাপাশি, সংখ্যায় খুব একটা বেশি না হলেও, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ইউরোপে বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে বলে জানান তিনি।
মানুষ আগের চেয়ে বেশি ইউরোপ যাচ্ছে, তবে তা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। কিন্তু ইউরোপের প্রবেশদ্বার তুরস্কে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে অনেক ট্যুরিস্ট গিয়েছেন।
আর ঈদের মত উৎসবের সময় ভ্রমণ করা ট্যুরিস্টদের মধ্যে তরুণ দম্পতি বা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করা মধ্যবয়সীদের সংখ্যাই বেশি বলে জানান ইসলাম।