
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর চিকিৎসা ব্যবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে চলছে । ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে ডাক্তার ১৮ পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত ডাক্তার রয়েছেন মাত্র ৪ জন। দীর্ঘ দিনের এ অচালাবস্থা যেন আর কাটছে না। এখানে গাইনি, এ্যানাসথেসীয়া, জুনিয়র অর্থপেটিক্স, জুনিয়র কনসালটেন্ট পদ সমূহের কোন ডাক্তার এ পর্যন্ত নেই। বার বার সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেও এসমস্যা সমাধান হয়নি যুগের পর যুগ পর্যাপ্ত ব্যয় হলেও এর সুবিধা পায়না জনগণ। দায়সারা কৌশলী দায়িত্ব পালন করে কর্মরতরা দিনাতি পাত করছেন। জরুরী রোগীদের দ্রুত রিভাড এবং গর্ভবতি রোগীদের ডেলিভারী করার জন্য পছন্দ মতো ক্লিনিকে নিয়ে যান। এক্ষেত্রে অন্যান্য রোগের চিকিৎসা দিতে বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়মিত বসেন এই অঞ্চলের হাসপাতালটির দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারগণ। কর্মকর্তা- টেকনিশিয়ান – কর্মচারী গণ অনিয়ম কে নিয়ম মেনে দিন পার করছেন। প্রতিদিন ব্যয়ের খাতা ভরে মাস শেষে সেবার পরিমাণের চেয়ে ব্যয়ের অর্থ দাড়ায় কয়েক গুণ।
৩১ শয্যার হাসপাতাল চালুকালীন থেকে এক্স-রে মেশিন এ পর্যন্ত অচল। টেকনিশিয়ান রয়েছে তবে এ পর্যন্ত কোন এক্স-রে করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নিত করা হলেও এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে লক্কড়-ঝক্কড় মার্কা বয়স ১৭ বছর প্রায়। অভিযোগ রয়েছে এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পৌঁছিতে বিরম্বনায় পড়ে রোগী । রেডিও টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফার) জুলফিকার আলী জুয়েল জানান, এক্স-রে মেশিনটির মেরামত অযোগ্য ঘোষণা করায় বেশ কয়েকবার নতুন মেশিনের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। তাতে কোন লাভ হয়নি। কিন্তু ডাকবাংলা মার্কেটে আদিম যুগের নিজের এক্সেরে মেশিন একদিন নষ্ট হয় না। এছাড়াও অনেক কর্মকর্তাগণ দোকান ঘরে ক্লিনিক নিয়ে বসেছেন বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষা করছেন।
হাসপাতালে শূন্য পদে ডাক্তার না থাকায় মাত্র ৯ জন মেডিকেল সহকারী ও ১৪ জন নার্স দিয়ে কোন রকমে রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।
সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানে, টেষ্ট ও সেবা বাণিজ্যের কাছে বন্দী ও নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষ। মৌলিক চাহিদার মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সেবা। জনগণের নাগরিক অধিকার নিয়ে ব্যানিজ্য চলতে পারেনা।