
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আগামী দুই মাস সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি (হেভি ওয়াটার) বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
পরমাণু সমঝোতা থেকে অবৈধভাবে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর ইশতেহার লঙ্ঘনের প্রথম বার্ষিকীতে বুধবার প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি এ ঘোষণা দিয়েছেন। খবর পার্স টুডের।
মার্কিন সরকার গত বছর ৮ মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায় এবং নভেম্বরে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, পরমাণু সমঝোতার অংশীদার দেশগুলোকে আমরা জানিয়ে দিয়েছি সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ও হেভি ওয়াটার বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও চীনকে বলেছি আলোচনায় ফিরে আসার জন্য তাদের সামনে ৬০ দিন সময় আছে।
যদি পাঁচ দেশের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক ফলাফল বেরিয়ে আসে এবং ইরানের প্রধান স্বার্থ বিশেষকরে তেল ও ব্যাংকিং খাতে ইরানের স্বার্থ নিশ্চিত হয় তাহলে আমরা সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করব। কিন্তু যদি ৬০ দিনের মধ্যে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হয় তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে আরও দু’টি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ওই দু’টি সম্ভাব্য পদক্ষেপ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, পরমাণু সমঝোতায় কথা ছিল আমরা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ৩.৬৭ মাত্রায় সীমাবদ্ধ রাখব। কিন্তু পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে আমরা আর তা মেনে চলব না। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা আর সীমাবদ্ধ রাখা হবে না।
এছাড়া আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমাদের স্বার্থ নিশ্চিত না হলে ৬০ দিন পর আমরা পরমাণু সমঝোতার পূর্ববর্তী অবস্থানে ফিরে যাব এবং আরাক হেভি ওয়াটার রিঅ্যাক্টরকে পরিপূর্ণতা দেওয়ার কাজ শুরু করব।
রুহানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরমাণু সমঝোতার অংশীদার পাঁচ দেশকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছি তারা যদি আমাদের আজকের পদক্ষেপকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের পরমাণু ইস্যুকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠায় তাহলে তেহরান অত্যন্ত কঠিন পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, ইরান কখনোই যুদ্ধের সূচনা করে নি, ভবিষ্যতেও যুদ্ধের সূচনা করবে না। তবে কারো তর্জন-গর্জনের কাছেও তেহরান কখনোই মাথানত করবে না।