
যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকান-আমেরিকান মুসলিমদের নিয়ে গঠিত রাজনৈতিক দল ‘Nation of Islam’ এর নেতা লুইস ফারাখান কে ফেইসবুক থেকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে দলটি ফেইসবুকের কঠোর সমালোচনা করেছে।
কৃষ্ণাঙ্গ ক্যাথলিক খ্রিষ্টান দের চার্চ আউব্রুন-গ্রেশাম এর যাজক মাইকেল পিফলেজার এর নেতৃত্বে ‘The Faith Community of Saint Sabina’ নামের একটি সংগঠনের উদ্যোগে পরিচালিত এক প্রতিবাদ র্যা লীতে লুইস ফারাখান ফেইসবুক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ভিন্ন মত দমনের অভিযোগ আনেন।
ফারাখান কে ফেইসবুক থেকে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে তা একনিষ্ঠ সমর্থক পিফলেজার ফেইসবুকের আচরণ কে ‘মুক্ত বাক স্বাধীনতার একটি ইস্যু’ বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এ দেশের মুক্ত বাক স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করি। যা কিছু আপনাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয় তার সবকিছু যদি আপনারা বন্ধ করে দেন তবে ফেইসবুকে আর কিছুই অবিশিষ্ট থাকবে না।’
প্রসঙ্গত, মার্ক জাকারবার্গ ফেইসবুকের সিইও এবং চেয়ারম্যান যিনি ১৫ বছর পূর্বে নিজের চার রুমমেট দের নিয়ে এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি চালু করেছিলেন।
বর্তমানে প্রতি মাসে ফেইসবুকের ২.৩ বিলিয়ন সক্রিয় ব্যাবহার কারী রয়েছে।
গত সপ্তাহে এক যোগে ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম থেকে লুইস ফরাখান সহ ডান পন্থী রাজনীতিবিদ পল নেহলেন, এল্যাক্স জোন্স, পল জোসেফ ওয়টস, লাউরা লুমার এবং মিলো ইয়ানোপোউলস কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
যদিও এসব ব্যক্তিদের ফেইসবুক থেকে নিষিদ্ধ করার জন্য প্রতিষ্ঠানটি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনে নি কিন্তু কর্তৃপক্ষ ফেইসবুকের নীতিমালা ভঙ্গ করে ‘ভয়ঙ্কর’ এবং ‘ঘৃণা’ ছড়ানোর অভিযোগে তাদের নিষিদ্ধ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
লুইস ফারাখান কে নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে ‘Nation of Islam’ এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ‘ফেইসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম থেকে ফারাখানের একাউন্ট সমূহ সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার সঠিক কারণ এবং এর পেছনে কারা রয়েছে তার সম্পর্কে অবশ্যই প্রশ্ন করার অধিকার আমাদের রয়েছে। যখন সত্যের আলো দৃশ্যমান হয় তখন শুধুমাত্র দুর্বলরাই তা দেখে ভয় পেয়ে যায়।’
একই সাথে ‘Nation of Islam’ ফেইসবুকের এমন সিদ্ধান্ত কে ‘পুরোপুরি অনৈতিক’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে আমি বার্তা সংস্থা ‘Chicago Sun-Times’ কর্মরত থাকার সময় লুইস ফারাখান কে ইহুদি নের্তৃবৃন্ধের সাথে বাক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে দেখতাম।
১৯৯৩ সালে আমি ফারাখানের একটি সাক্ষাতকার নিয়েছিলাম। কৃষ্ণাঙ্গ জাতীয়তাবাদী এই নেতা সে সময় ইহুদি ধর্ম কে ‘একটি নর্দমার ধর্ম’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
সে সময় ফারাখান আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি এবং আমার লোকজন ইহুদিদের সাথে আলোচনায় বসতে চাই যাতে করে আমার লোকজনদের মুক্ত করা যায় এবং রাস্তায় পড়ে মৃত্যু বরণ করা থেকে আমি আমার জাতি কে মুক্ত করতে পারি।’
ফারাখান আরো বলেন, ‘আমি কখনো নিজেকে তাদের নিকট সমর্পণ করবো না। কখনো না। যদি আপনি হাজার বছরও বেঁচে থাকেন তবে দেখবেন আমি কখনো শ্বেতাঙ্গদের কাছে আমাকে গ্রহণ করে নেয়ার জন্য হাঁটু গেড়ে বসবো না।’
তিনি একই সাথে বিশ্বকে ‘ইহুদিদের শোষণে’ রয়েছে বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, ‘কারা কৃষ্ণাঙ্গদের সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ করে? করা কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণ করে? করা কৃষ্ণাঙ্গ বুদ্ধিজীবীদের, রাজনীতিবিদ দের নিয়ন্ত্রণ করে? যখন আমি ইহুদিদের কথা বলি আমি তখন এমন একটি জাতীর কথা বলি যারা আমার লোকজনদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে।’
কিন্তু এত কিছু স্বত্বেও ফারাখান কে কখনো শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে সংঘাত ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় নি।
তথাপি ফারাখান এবং ইহুদি নেতৃত্বের মধ্যে দীর্ঘ সময় জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকলেও আমি দেখতে পেয়েছি যে, ‘Nation of Islam’ এমন একজন লোকের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যিনি সংস্কার পন্থী এক ইহুদি পরিবারে বড় হয়েছিলেন।’
যদিও ফারাখান ‘ইহুদি বিদ্বেষী’ এমন অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করে আসছেন তথাপি তাকে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত করার জন্য এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে।
উদাহরণ সরূপ, গত বছর ফারাখান তার ফেইসবুক একাউন্টে পোষ্ট করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইহুদি দের কে উইপোকার সাথে তুলনা করেছেন।
সুতরাং কেন মার্কা জাকারবার্গ নিজে একজন ইহুদি হয়ে তার প্রতিষ্ঠিত ফ্লাট ফর্মে ফারাখানের মত ইহুদি বিদ্বেষী লোক কে অনুমোদন করবেন?
কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভাবে ‘নিজের জন্য কর’ এমন ধারণায় বিশ্বাসীদের কি হবে?
ফারাখান যখন নিজের ইহুদি বিরোধী বক্তব্য দেয়া শুরু করেন তখন অনেক কৃষ্ণাঙ্গ লোকজন তার বিরোধিতা করে কিন্তু তারা তার বার্তা সমূহ কে নিজের ক্ষমতায়নের উৎস হিসেবে বিবেচনা করে।
আর ফেইসবুক থেকে তাকে নিষিদ্ধ করে এটি দেখিয়ে দেয়া হয়েছে যে, কেন তার বার্তা সমূহ এতটা গুরুত্বপূর্ণ।
পিফলেজার বলেন, ‘যদি আমাদের কোনো কৃষ্ণাঙ্গ মালিকানাধীন বার্তা সংস্থার প্রয়োজন হয় তবে তা এখনই প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, কৃষ্ণাঙ্গ গণমাধ্যম সমূহ দিন দিন তলানিতে পৌঁছে যাচ্ছে। আফ্রিকান-আমেরিকান টেলিভিশন, রেড়িও এবং সোশ্যাল মাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবী।’