
আরব উপসাগর অতিক্রমের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় যে তেলবাহী জাহাজগুলো ‘গুপ্ত হামলা’র শিকার হয়েছে ঐ জাহাজগুলো সৌদি আরবের। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশটির কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ ‘গুপ্ত হামলার’ শিকার হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে রবিবার এই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। খবর বিবিসির।
একটি বিবৃতিতে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রী খালিদ আল-ফালিহ বলেছেন,ফুজাইরাহ বন্দরের কাছাকাছি ওই হামলায় জাহাজগুলোর ‘অনেক’ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, অনেক গুলো দেশের নাগরিক থাকা চারটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। তবে হতাহতের কোন তথ্য জানা যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, হামলার এই ঘটনা ‘উদ্বেগজনক এবং ভীতিকর’ এবং এর পূর্ণ তদন্তের আহবান জানিয়েছেন।
এরপর থেকে ওই এলাকায় উত্তেজনা চলছে। এখান দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক পঞ্চমাংশ রপ্তানি হয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ও নৌ চলাচলের ওপর ইরানের হুমকির ‘পরিষ্কার ইঙ্গিত’ পাওয়ার কথা জানিয়ে কিছুদিন আগে ওই এলাকায় অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ওই অভিযোগকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।
‘গুপ্ত হামলা’ সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
”আরব উপসাগর অতিক্রমের সময় আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের কাছাকাছি এলাকায় দুইটি সৌদি তেলের জাহাজ গুপ্ত হামলার শিকার হয়েছে।” সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রেস এজেন্সি মি. ফালিহকে উদ্ধৃত করে খবর দিয়েছে।
”দুইটি জাহাজের একটি সৌদি অপরিশোধিত তেল নিয়ে রাস তারুনা বন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি আরামকোর গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।”
হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুইটি জাহাজের বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মি. ফালিহ বলছেন, ”সাগরে নৌচলাচলের এবং তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে।”
তবে ফুজাইরাহ বন্দরে রবিবার বিস্ফোরণের যে খবর দিয়েছিল আরব আমিরাতের গণমাধ্যম, তা নাকচ করে দিয়েছিল আমিরাতের সরকার।
ওই এলাকা দিয়ে নৌযান চলাচলের সময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ।
‘নাশকতামূলক হামলা’র খবর স্বীকার করল সংযুক্ত আরব আমিরাত
প্রথমে অস্বীকার করার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেছে, তার পানিসীমার কাছে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ‘নাশকতামূলক’ হামলা হয়েছে। আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশটির পানিসীমার কাছে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে কে বা কারা ‘নাশকতামূলক অভিযান’ চালিয়েছে।
এসব নাশকতামূলক তৎপরতায় কেউ নিহত হয়নি বলে বিবৃতিতে জানানো হয়। তবে এতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কোনো ক্ষতি হয়েছে কিনা বা জাহাজগুলো কোন্ কোন্ দেশের সে সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ বিবৃতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডাব্লিউএএম প্রকাশ করে। খবর পার্স টুডের।
আরব আমিরাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নাশকতামূলক তৎপরতার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা এবং এসব জাহাজের কর্মীদের জীবন বিপদাপন্ন করে তোলাকে ভয়ানক কাজ হিসেবে দেখা হচ্ছে। হামলার কারণে ফুজাইরা বন্দরের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়নি বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
সন্দেহের চোখ ইরানের দিকে
এমন একসময় এ ঘটনা ঘটেছে যখন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার পারদ প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। তবে কী ধরনের নাশকতা ঘটেছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি। এতে কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।
আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, ইরান থেকে একশ ১৫ কিলোমিটার দূরে ফুজাইরার কাছে এই চারটি জাহাজে নাশকতা চালানো হয়েছে। এসব বাণিজ্যিক জাহাজে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা ছিলেন। আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে ঘটনার তদন্ত করছে।
তবে ফুজাইরা বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। আরব আমিরাত জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে নাশকতার লক্ষ্যবস্তু বানানো এবং ক্রু সদস্যদের জীবন হুমকিতে পড়ার এই ঘটনা ভয়ঙ্কর।
এক্ষেত্রে এ ঘটনাকে সামুদ্রিক জলসীমায় নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করবে আরব আমিরাত।
এর আগে সমুদ্রে বাণিজ্যিক জাহাজকে ইরান হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাবে বলে গত সপ্তাহে হুশিয়ারি জারি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন উপকূল প্রশাসন বলেছে, মে মাসের শুরু থেকে ইরান কিংবা তাদের আঞ্চলিক ছায়া বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারে। এর আগে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
আরব উপসাগর ও ইরানকে আলাদা করে দেয়া এ প্রণালীটি বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, লোহিত সাগর, বাব এল মানদেব ও আরব উপসাগরে মার্কিন সামরিক নৌযান, তেলট্যাংকারসহ বাণিজ্যিক জাহাজকে হামলার লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে ইরান ও তার ছায়া বাহিনী।