
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শ্রীলংকায় গির্জা এবং হোটেলে ছয়টি বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছ ২০৭ জনে। এ ঘটনায় আরো কয়েক শতাধিক আহত হয়েছে। পাঁচ তারকা হোটেল সাংরি লা, কিংসবেরি এবং সিনামন গ্রান্ড হোটেলে বিস্ফোরণ হয়েছে। এ হোটেলগুলো কলম্বো শহরের কেন্দ্রে অবস্থিত।
গির্জাগুলোতে যখন বিস্ফোরণ হয় তখন ইস্টার সানডে পালনের জন্য অনেকে প্রার্থনায় ছিলেন। ঘটনার পর দেশজুড়ে কারফিউ জারি করেছে সরকার।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের দপ্তরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরো দেশে কারফিউ বলবৎ থাকবে। পাশাপাশি সোম ও মঙ্গলবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবিসি সিংহলার সাংবাদিক আযাম আমিন জানাচ্ছেন, কলম্বোর দেমাতাগোদা এলাকা থেকে দুজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে সর্বমোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো সাত জনে।
শ্রীলংকার প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তিনি জানাচ্ছেন, অধিকাংশ বিস্ফোরণই ছিল আত্মঘাতী হামলা এবং একটি গোষ্ঠিই হামলাগুলো চালিয়েছে।
পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে বোমা হামলার সন্দেহভাজনেরা
শ্রীলংকার অর্থনৈতিক সংস্কার বিষয়ক মন্ত্রী হর্ষ ডিসিলভা প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান ভিজেভার্দানেকে উদ্ধৃত করে বলছেন, সে দেশের দেহিওয়ালা এবং ডেমাটাগোটা নামক জায়গায় যে দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে, সেটার পেছনে যারা রয়েছেন তারাই সম্ভবত আগের হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত।
পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্যই তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলে মন্ত্রী বলছেন।
শ্রীলংকার হামলাকারীরা শনাক্ত: প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী
শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুয়ান ভিজেভার্দানে বলছেন, তার দেশে হামলা চালিয়েছে যারা, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং দ্রুত তাদের আটক করা হবে।
তিনি বলছেন, আমাদের দেশে যেসব সন্ত্রাসবাদী দল তৎপর আমরা তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব।
যে কোন ধর্মীয় উগ্রপন্থা অনুসারী তারা হোক না কেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
তারা যাতে ভবিষ্যতে এদেশে তৎপরতা চালাতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও নেয়া হবে।
ছাদ ধ্বসে পড়ে
সেন্ট অ্যান্থনী গির্জা কাজ করেন সিলভেস্টার।
বিবিসির সাথে কথা বলেছেন তিনি।
বিস্ফোরণের শব্দ শুনলাম এবং এরপর ছাদ ধ্বসে পড়লো আমাদের ওপর। বাচ্চাদের নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে দৌঁড় দিলাম।
কিন্তু হাসপাতালে এসে দেখলাম আমার শ্যালক ও ছেলে মেঝেতে।
শ্রীলংকার হামলা সম্পর্কে যা বললেন কলম্বোবাসী বাংলাদেশী
শুভ হৃদয়েষ ২০০৫ সাল থেকে কলম্বোতে বসবাস করছেন। তিনি সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসক। হামলা-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কথা বলছিলেন বিবিসি বাংলার শাকিল আনোয়ারের সাথে।
কলম্বোর গির্জার ভেতরের দৃশ্য
শ্রীলংকায় বোমা হামলার পর কলম্বোর সেন্ট অ্যান্টনি গির্জার ভেতরে প্রথম ছবিগুলো প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। শহরের উপকণ্ঠে এটি খুবই জনপ্রিয় এক গির্জা।
গির্জার আশেপাশে এখন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে, এবং পুলিশের তদন্ত চলছে।
শ্রীলংকান মুসলিম কাউন্সিলের নিন্দা
ভারতের ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকার কলম্বোভিত্তিক সাংবাদিক মীরা শ্রীনিবাসন – তাঁর টুইট বার্তায় শ্রীলংকান মুসলিম কাউন্সিলের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। যেই বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটিG
সোশাল মিডিয়ার মেসেজিং সার্ভিস বন্ধ: রয়টার্স
বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিচ্ছে যে শ্রীলংকার সরকার সে দেশের প্রধান সামাজিক মাধ্যমের মেসেজিং সার্ভিসগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বিবিসি শ্রীলংকার বিভিন্ন জায়গা থেকে কিছু কিছু মেসেজ এখনও পাচ্ছে। ফলে এর প্রভাব সম্পর্কে এখনই পরিষ্কার কোন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।
হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের সারি
শ্রীলঙ্কার বোমা হামলায় হতাহতদের নিয়ে একের পর এক অ্যাম্বুলেন্স হাজির হচ্ছে কলম্বোর হাসপাতালে। হামলাগুলিতে এপর্যন্ত ১৫৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। মৃতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শ্রীলংকা সম্পর্কে কিছু তথ্য
ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা গত কয়েকশ বছর ধরে পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাধ্যমে।
কিন্তু দেশটিতে বহু বছর ধরে তুমুল গৃহযুদ্ধ চলেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিজ এবং সংখ্যালঘু তামিলদের মধ্যে এ যুদ্ধ চলেছে দেশটির উত্তর এবং পূর্বাঞ্চলে।
২৫ বছর ধরে চলা সে সংঘাতের অবসান হয় ২০০৯ সালে।
সরকারী বাহিনী যখন বিদ্রোহী তামিল টাইগারদের সর্বশেষ শক্ত ঘাটি দখল করে নেয় তখন গৃহযুদ্ধের অবসান হয়।
১৬ শতকের পর পর্তুগীজ এবং ডাচরা শ্রীলংকা নিয়ন্ত্রণ করেছে।
১৫০ বছর ব্রিটিশ শাসনের পর ১৯৪৮ সালে শ্রীলংকা স্বাধীনতা লাভ করে।
শ্রীলংকার মোট আয়তন ৬৫৬০০ বর্গ কিলোমিটার এবং জনসংখ্যা দুই কোটি বিশ লাখ। দেশটির মোট জনসংখ্যার ৭০ শতাংশ বৌদ্ধ।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে হিন্দু জনগোষ্ঠি যারা মোট জনসংখ্যার ১৩ শতাংশ।
এছাড়া মুসলিম ১০ শতাংশ এবং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যা ৭ শতাংশ।