
রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর আজ। ২০১৩ সালের এইদিন সকালে ধসে পড়ে রাজধানীর অদূরে সাভারের ৯ তলা ভবন রানা প্লাজায় থাকা গার্মেন্টস করখানাসহ একশতর বেশি দোকান।
এ ঘটনায় উদ্ধার করা হয় ১ হাজার ১৭৫ জন শ্রমিকের মৃতদেহ। আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অন্তত দুই হাজার জন। একসঙ্গে এতো শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্ব-ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শিল্প-দুর্ঘটনা।
দিনটি স্মরণে সাভারে রানা প্লাজা ভবনস্থলে নানা কর্মসূচি পালন করছে বিভিন্ন শ্রমিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। সকালে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায় তারা। অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও মানববন্ধন। কর্মসূচিতে অংশ নেয় স্বজনহারাদের অনেকে। এ ঘটনায় দোষীদের কঠোর সাজা দাবি করেন তারা। তারা আরো দাবি জানান, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের।
ভবন ধসে হতাহতের ঘটনায় ১৪ টি মামলা হয়। তবে, তার অগ্রগতি নেই বললেই চলে। মামলাগুলোতে বিভিন্ন সময়ে রানা প্লাজার মালিক রানা, সাভারের জনপ্রতিনিধি, প্রকৌশলীকে জেলে যেতে হয়েছে। তবে ভবন মালিক ছাড়া বর্তমানে সবাই জামিনে।
এ ঘটনায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মোট তিনটি মামলা হয়। এর মধ্যে অবহেলাজনিত মৃত্যু চিহ্নিত হত্যা মামলাটি করে পুলিশ। ইমারত নির্মাণ আইন লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণের অভিযোগে অপর মামলাটি করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ভবন নির্মাণসংক্রান্ত দুর্নীতি নিয়ে আরেকটি মামলা করে।
প্রায় তিন বছর আগে হত্যার অভিযোগে রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
ঢাকা জেলা পিপির দপ্তর থেকে গত রবিবার বলা হয়েছে, অভিযোগ গঠনের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আটজন আসামি হাইকোর্টে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে এই আটজনের পক্ষে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ আসে। ইতিমধ্যে ছয়জন আসামির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হয়েছে। কেবল সাভার পৌরসভার তৎকালীন মেয়র রেফায়েত উল্লাহ এবং তৎকালীন কাউন্সিলর মোহাম্মদ আলী খানের পক্ষে স্থগিতাদেশ বহাল আছে। রেফায়েত উল্লাহর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আগামী ৯ মে পর্যন্ত। আর মোহাম্মদ আলীর পক্ষে আগামী জুন মাস পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়।
অন্যদিকে ছয় বছরেও হত্যা এবং ইমারত নির্মাণ আইনের মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ও ভুক্তভোগীরা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রানা প্লাজা ধসের হত্যা মামলায় ৪১ আসামির মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন একজন। তিনি হলেন রানা প্লাজা ভবনের মালিক সোহেল রানা। জামিনে আছেন ৩২ আসামি। পলাতক আছেন ছয়জন। মারা গেছেন দুই আসামি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনও অনেক কারখানার মান উন্নয়নের কাজ বাকি রয়ে গেছে। এ ছাড়াও সরকারি উদ্যোগে কারাখানাগুলোর পরিবেশ ও শ্রম অধিকার রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতারও ঘাটতি রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর উন্নতি না এলে তা ভবিষ্যতে তৈরি পোশাক খাতের ব্যবসায় আবারও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ছয় বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অনেকেই এখনও কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। বছরের পর বছর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন।সূত্র- আরটিএনএন