
নিউজ ডেস্ক
বিবিসি বাংলার শ্রোতা, দর্শক এবং পাঠকদের মধ্যে এ সপ্তাহেও সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মারা যাবার ঘটনা অপরাধীর বিচারের দাবি।
এ নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার।
‘বিবিসি বাংলার টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রবাহে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা কান্ডের বিচারের আশঙ্কা নিয়ে আবুল কালাম আজাদের রিপোর্টটি দেখলাম। গুরুত্বপূর্ণ এ রিপোর্টটির জন্য মি. আজাদকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বিগত সময়ে আমরা যেটি দেখেছি, কোনো একটি ঘটনার পর বেশ কিছুদিন বিষয়টি নিয়ে বেশ তোলপাড় হয় তারপর একটা সময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা পড়ে যায়।’
‘এধরণের হত্যা কান্ডের বিচার হয়েছে এমন নজিরও খুব একটা চোখে পড়ে না। সঙ্গত কারণেই অধিকাংশরা এমনটাই মনে করছেন, নুসরাত জাহান হত্যা কান্ডের সঙ্গে জড়িতদের হয়তো তেমন ভাবে শাস্তি হবে না। এই যে বিচার হীনতার সংস্কৃতি সেটি অপরাধীদের কি এ ধরণের অপরাধ করতে উৎসাহিত করছে?’
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অভিযোগপত্র বা চার্জশিট পাওয়ার সাথে সাথেই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নেয়া হবে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগের তদন্তও শুরু করেছে পুলিশ বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত দল।
বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হয় কিনা সেটাই এখন দেখার।
১৯৯৯ সালে টিএসসিতে ইংরেজি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে তরুণীর শ্লীলতাহানির ঘটনা নিয়ে সেসময়কার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের কাটিং।
একই বিষয়ে আরেকটি চিঠি লিখেছেন পার্বতীপুর, দিনাজপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক।
‘আমাদের বলতেই হবে, রাফি একজন অসম সাহসী প্রতিবাদী নারী। আমাদের সমাজে নারীরা সাধারণত লোকলজ্জার ভয়ে লোকসমাজে যৌন হয়রানির কথা তেমন একটা স্বীকার করতে চান না। রাফির পরিবার শুধু স্বীকার করা নয়, শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে। শুধু তাই নয়, চাপের মুখেও রাফি মামলা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়েই থাকবে এ সমাজে। আমি এই সাহসিকতার জন্য তাকে স্যালুট জানাই ; রাফির মৃত্যু সারা দেশের মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে গেছে।’
আসলে বাংলাদেশে যেখানে শহরাঞ্চলেও যৌন নির্যাতনের অনেক অভিযোগ লোকলজ্জার ভয়ে লুকিয়ে রাখার কথা শোনা যায়, সেখানে মফস্বল শহর এবং রক্ষণশীল পরিবার থেকে আসা নুসরাত তার অভিযোগ নিয়ে আদালত পর্যন্ত গিয়েছিলেন। শরীরের ৮০ শতাংশ দগ্ধ হবার পর ঢাকায় নিয়ে আসার পথে তার ভাইয়ের মোবাইলে রেকর্ড করা এক অডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে- শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিয়েছে, শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো।
তার এই সাহসী প্রতিবাদ আসলে সারা দেশের মানুষকে অভূতপূর্বভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেকেই বলছেন এখন দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করা গেলে এই মেয়েটি হয়ত অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে। চিঠি লেখার জন্য মি: সরদার ও ইসলাম আপনাদের অনেক ধন্যবাদ।
যৌন নির্যাতন প্রসঙ্গে লিখেছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি।
‘১৮ এপ্রিল প্রবাহ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের খ্যাতিমান গবেষক ও সাংবাদিক আফসান চৌধুরীর সাক্ষাৎকারটি শুনলাম এবং ওয়েবসাইটে পড়লাম। তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, শিশু কালে তিনিও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। সমাজে পুরুষ কর্তৃক নারী শিশুরা যেভাবে নিপীড়িত, নিগৃহীত বা নির্যাতিত হয় ঠিক তেমনি এর উল্টোটাও ঘটে। নারী কিংবা পুরুষ শিশুরা যৌন নির্যাতিত বা নিগৃহীত হলে সেটা অনেকে লোক লজ্জায় প্রকাশ করে না কিংবা প্রভাবশালীদের চাপে প্রকাশ করতে সাহস পায় না। আমি মনে করি, এ সম্পর্কে আফসান চৌধুরীর সহজ সরল স্বীকারোক্তি অনেককেই সচেতন করতে সহায়তা করবে।’
এসব কথা মানুষ যত প্রকাশ করবে তত সমাজে দীর্ঘকাল ধরে আড়ালে থাকা এসব নির্যাতন, নিগ্রহের কথা বাইরে আসবে। এসব নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। বাবামা এবং অভিভাবকরাও তাদের শিশু সন্তানদের এই স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কীভাবে সচেতন করা যায় তা নিয়ে আরও সক্রিয়ভাবে ভাববেন। লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।