
ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে বুধবার ভোর থেকেই চলছে গুলিবর্ষণ। ঘটনাটি কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার সুন্দরবাণী সেক্টরে। ওই হামলার স্বীকার হয়ে ভারতের ২ জওয়ান আহত হয়। নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ফের পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৬ মার্চ) ভোর ৪ টা থেকে নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারত গুলি চালালে তাদের পাল্টা জবাব হিসেবে পাকিস্তান সেনা বাহিনীও তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এ হামলার ঘটনা সত্য বলে জানিয়েছেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মুখপাপত্র কর্ণেল দেবেন্দর আনন্দ।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তানের তরফ থেকে প্রায় প্রতিদিনই নিয়ন্ত্রণরেখা চুক্তি লঙ্ঘন করে গোলাগুলি চালানো হয়। কিন্তু তাদের এরকম হামলার পরিমাণ বেড়েছে মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে। ভোর রাতের অন্ধকারে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তিনি আরও বলেন, ভারতীয় উইং কমান্ডার অভিন্দনকে আটকের পর দেশে ফেরত পাঠানোয় আমরা পাক সেনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তবে সেদিনের পর থেকে আকস্মিক হামলা একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছে তারা।তার আগের দিনই
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীর পুলওয়ামায় দেশটির বিশেষায়িত বাহিনীর (সিআরপিএফ) গাড়িবহনে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ৪৯ জওয়ান প্রাণ হারান। আহত হয় প্রায় অর্ধশতাধিক। এদিকে ওই গাড়িবহরে হামলার দায় স্বীকার করেন পাকিস্তান অবস্থানরত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মাদ। ওই হামলার ১৩ দিন পর ভারত জইশের সবচেয়ে বড় জঙ্গিঘাঁটি ছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে। সেই বালাকোটে হামলা চালায় ভারতের বায়ুসেনারা। তবে ওই হামলায় জইশের ৩০০ জন জঙ্গি নিহতের দাবি জানিয়ে আসলেও পাকিস্তানের পক্ষে তার উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।
পাক-ভারতে এমন উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে ঠিক তখন ইসরাইলের সমর্থন নিয়ে পাকিস্তানে এক বিপজ্জনক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল ভারত। পরিকল্পনাটি করা হয়েছিল রাজস্থানের বিমানঘাঁটি থেকে। ওই পরিকল্পনার ব্যাপারে অবগত হতে পেরেছিল যথাসময়ে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। হামলার পরিকল্পনার গোপণ তথ্য পেয়ে পাল্টা হুমকি দিয়ে বার্তা পাঠায় পাক গোয়েন্দা সংস্থা। ফলে বিপজ্জনক পথে পা বাড়ানো আগেই পিছু হটে ভারত।
অভিনন্দনকে আটকের খবর প্রকাশের পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। পরে দেশটির পার্লামেন্টে যৌথ এক অধিবেশনে শান্তিপূর্ণ আবহ তৈরির লক্ষ্যে আটক পাইলটকে ভারতে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেন ইমরান। এমন এক অবস্থায় উত্তুঙ্গ সময় পার করেছে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী দু’টি দেশ। কয়েক দশকে তাদের মধ্যে এত বেশি যুদ্ধের কাছাকাছি চলে যাওয়ার মতো অবস্থা সম্ভবত সৃষ্টি হয়নি। আর এ যুদ্ধ লেগে গেলে কী হতো পরবর্তীতে তা নিশ্চিত করে কেউ জানেন না।