
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তৈরি ফোর্ড টাউরুস মডেলের গাড়িটিতে এমন ভাবে জরুরি সাদা বাতি, নীল ফিতা লাগানো হয়েছে যে কারো নিকট একে একটি পুলিশের গাড়ি বলেই মনে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের ব্রুকলিন শহরের রাজপথে পথচারীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য ‘Muslim Community Patrol’ নামের একটি সংগঠন এই অভিনব পদ্ধতি বেঁচে নিয়েছে। তারা মূলত পথচারীদের বিভিন্ন বিষয়ে সহায়তা করে থাকেন।
‘Muslim Community Patrol’ এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ৩১ বছর বয়সী নুরা রাবাহ বলেন, ‘তাদের নতুন এই সেবা মূলত পথচারীদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেয় এবং বিদেশি পথচারীদের জন্য দোভাষীর কাজ করে।’
স্থানীয় পুলিশ বিভাগের সহায়তা নিয়ে ‘Muslim Community Patrol’ এর ৬০ জন স্বেচ্ছা সেবীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ইতোমধ্যেই তাদের দুটো গাড়ি রাস্তায় নেমেছে এবং তারা আশা করছে আগামী এক বছরের মধ্য অন্তত আরো আটটি গাড়ি তারা এতে যুক্ত করতে পারবেন।
নুরা রাবাহ বলেন, ‘গত এক দশক ধরে মুসলিম কমিউনিটির দেখা স্বপ্ন এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি মুসলিমদের এরকম কিছু একটা প্রতিষ্ঠা করতে, কারণ এটি ঐক্যের অনুভূতি দেয়। এটি একে অপরকে বোঝাপড়ার জন্য কার্যকরি, একই সাথে মুসলিম নাগরিক এবং নিউইয়র্ক শহরের পুলিশ বিভাগের সাথে মৈত্রীর বন্ধন সুদৃঢ় করার জন্য প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।’
‘কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা অনুভব করি যে, যদি আমরা নিকটে অবস্থান করতে পারি তবে হয়ত আমরা অপরাধ দমনেও সহায়তা করতে পারবো।’
তিনি এসময় ২০১৬ সালে নিউইয়র্কের কুইনবার্গের একটি মসজিদ থেকে নামায আদায়ের পর একজন ইমাম এবং তার সহকারীর নিহত হওয়ার বিষয়টি স্মৃতিচারণ করেন।
প্রসঙ্গত, ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী অস্কার মোরেল নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যায় নি।
‘Muslim Community Patrol’ এর স্বেচ্ছা সেবীরা ব্রুকলিন শহরের ইসলামিক বিদ্যালয় সমূহের আশেপাশে অবস্থান নেয়ার পরিকল্পনা করেছেন যাতে করে তারা এখানকার মুসলিম শিক্ষার্থীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং তাদের উপর আসন্ন যেকোনো আক্রমণ ঠেকিয়ে দিতে পারেন।
একই সাথে স্বেচ্ছা সেবীরা মসজিদ সমূহের কাছাকাছি এবং বে-রিজ নামের একটি অঞ্চলের রাজপথে চলাচল করবেন বলে জানা যাচ্ছে যেখানে সিরিয়ান বংশোদ্ভূত মুসলিমদের বসবাস বেশী।
সংগঠনটি আশা করে তারা সরাসরি অংশগ্রহণ না করে, বরং প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করতে পারবেন এবং সন্দেহজনক কোনো কাজের বিরুদ্ধে পুলিশ বিভাগকে সতর্ক করতে পারবেন।
তবে লাউরা লোমের নামের একজন উগ্রপন্থী রাজনৈতিক নেত্রী যাকে মুসলিম বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য টুইটার থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার মতে ‘Muslim Community Patrol’ এর ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে তারা মূলত শরিয়া আইনের প্রয়োগ ঘটাতে চাচ্ছে। আপনাদের যদি মনে হয় শরিয়া আইন যুক্তরাষ্ট্রে নেই তবে এখানে এসে তা দেখে যেতে পারেন।’
তবে ‘Muslim Community Patrol’ এর সেবাটি নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। তারা ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ‘Brooklyn Asian Safety Patrol’ এবং ইহুদিদের সংগঠন ‘Shomrim’ এর সাথে যোগসূত্র বজায় রেখে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন।

নুরা রাবাহ বলেন, শরিয়া আইনের সাথে যদি যোগসূত্র থাকতো তবে আমরা অনুমোদন পেতাম না।
তিনি বলেন, ‘বাস্তবতা হচ্ছে আমরা আসলে এরকম কিছু করছি না। আমরা কারো উপর কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দিচ্ছি না।’
‘Muslim Community Patrol’ কর্তৃক আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দাতব্য কাজের জন্য অর্থ উত্তোলনকারী আমিরুদ্দিন রাহিম অংশ গ্রহণ করেন, যিনি ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে স্থায়ীভাবে চলে আসেন, তিনি একে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সমাজের অংশ তা দেখানোর জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ এবং যখন সমাজে কোনো অপরাধ ঘটে তখন অন্যদের মত আমরাও ব্যথিত হই।’
সূত্র: দ্যা ন্যাশনাল ডট এই।