1. arifcom24@gmail.com : Arif Uddin : Arif Uddin
  2. admin@khoborbari24.com : arifulweb :
  3. editor@khoborbari24.com : editor : Musfiqur Rahman
  4. hostinger@khoborbari24.com : Hostinger Transfer : Hostinger Transfer
  5. khoborbari@khoborbari24.com : Khoborbari : Khoborbari
  6. khobor@gmail.com : :
বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
২৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৪শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার তারাগঞ্জে ভোটগ্রহণের হার ৬৬.৩৬ শতাংশ উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন : গণনার প্রস্তুতি চলছে পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রের গোপন কক্ষে স্মার্টফোন! আইন লঙ্ঘন নাকি প্রশাসনিক ব্যর্থতা? গাইবান্ধায় ৬৭৫ ভোটকেন্দ্রে চলছে ভোটগ্রহণ গাইবান্ধা-৩ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থী ভোট দিলেন পলাশবাড়ীতে বাড়ির ছাদ থেকে ২০০ বাঁশের লাঠি উদ্ধার জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গাইবান্ধায় র‌্যাবের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধার ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন গাইবান্ধা-৩ আসনে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট গ্রহনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন

গাইবান্ধায় পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ৬২ ইটভাটা চললেও প্রশাসন নিরব || বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

  • আপডেট হয়েছে : মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০১৯
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার ৭টি উপজেলার ঘন বশতী এলাকা ও ফসলি জমিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স ছাড়াই স্থাপন করা ইটভাটা গুলো বছরের পর বছর ধরে চললেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না প্রশাসন। সচেতন মহলের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব অবৈধ ইটভাটা কৃষি জমিতে স্থাপন করা হচ্ছে। এসব ইটভাটায় কাঠ ও বাঁশের মুড়া পোড়ানোর ফলে পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে আর প্রশাসন চুপচাপ রয়েছে।

তবে জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সাত দিন পেরিয়ে গেলেও জেলার কোন অবৈধ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে আজ অবধি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জয়নুল বারী মুঠোফোনে বলেন, সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে কেউ অবৈধভাবে ইটভাটা চালাতে পারবেন না। স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধ ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ইটভাটা রয়েছে ১০৩ টি। এর মধ্যে ৩৩টি লাইসেন্স রয়েছে। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লাইসেন্স বিহীন চলছে ৬২টি ইটভাটা। এর মধ্যে ড্রামসীটের চিমনীও রয়েছে দশটি।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ জেলা প্রশাসকের নিকট ইট প্রস্তুত করণের (ইটভাটা স্থাপনের) লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করতে হয়। সে আবেদন অনুসন্ধান কমিটি অনুসন্ধান পূর্বক জেলা প্রশাসকের নিকট লাইসেন্স প্রদানের বিষয়ে সুপারিশ করবে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসক বিষয়টি নিয়ে যাচাই করবেন। তারপর নির্ধারিত ফি নিয়ে লাইসেন্স প্রদান করবেন। এক্ষেত্রে পরিত্যাক্ত অনাবাদি জমি, নিচু জলাশয়ের ধারে, নদীর পাশে এবং কমপক্ষে চারদিকে এক কি.মি. জনশূন্য এলাকায় ইটভাটা স্থাপনের অনুমোদন দেয়ার কথা। কিন্তু গাইবান্ধায় যেসব ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তার বেশীর ভাগই ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে ঘনবসতি এলাকায় ও কৃষি জমিতে। আর শতাধিক ইটভাটা মালিক পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের নিকট থেকে লাইসেন্স না নিয়েই বছরের পর বছর ধরে ইটভাটা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
ইটভাটা আইনে বলা হয়েছে, যদি কোন ব্যক্তি ধারা- ৮ এর উপধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করে নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ৫ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা অর্থদন্ডে বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এ ছাড়া যদি কোন ব্যক্তি ধারা- ৬ এর বিধান লঙ্ঘন করে ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কাজে জ¦ালানী কাঠ ব্যবহার করে, তাহলে তিনি অনধিক ৩ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ৩ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। আইনে আরও বলা হয়েছে, জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স গ্রহণ না করে যদি কেউ ইটভাটায় ইট প্রস্তুত করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয়দন্ডে দন্ডিত হবেন। এছাড়া ইট প্রস্তুত করবার উদ্দেশ্যে কৃষি জমি বা পাহাড় বা টিলা থেকে মাটি কেটে বা সংগ্রহ করে ইটের কাচা মাল হিসাবে তা ব্যবহার করেন, তাহলে তিনি অনধিক ২ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন এবং স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত উপজেলা বা ইউনিয়ন বা গ্রামীণ সড়ক ব্যবহার করে ইট বা ইটের কাচামাল ভারী যানবাহন দ্বারা পরিবহন করেন, তাহলে তিনি অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালে ৯টি, ২০১৫ সালে ৬টি, ২০১৬ সালে ৬টি, ২০১৭ সালে ২টি ও ২০১৮ সালে ১০টি সহ মোট ৩৩টি ইটভাটার লাইসেন্স দিয়েছে জেলা প্রশাসন। লাইসেন্স প্রাপ্তির ৩ বছর পর নবায়নের নিয়ম থাকলেও নবায়ন করেনি ৮টি ইটভাটা। এসব ইটভাটা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বছরের পর বছর ধরে চলছে। লাইসেন্স নবায়ন হচ্ছে না এমন ইটভাটা গুলো হলো- গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা ঘোড়ামারা এলাকার মেসার্স বিটিসি ব্রিকস, একই উপজেলার মাস্তা এলাকার মেসার্স স্টার ব্রিকস, পলাশবাড়ী উপজেলার ঢোলভাঙ্গা এলাকার মেসার্স হাজী ব্রিকস, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জরমনদী এলাকার মেসার্স পলাশ ব্রিকস, সাদুল্যাপুর উপজেলার কুঞ্জমহিপুর এলাকার মেসার্স এস.আর.বি ব্রিকস, গাইবান্ধা সদরের মেসার্স এবিডি ব্রিকস ও মেসার্স সিথি ব্রিকস-২ এবং মেসার্স সিথি ব্রিকস-৩। এছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র ও লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা গুলো হলো- সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ৬টি, গাইবান্ধা সদরে ১৪টি, সাদুল্যাপুরে ১৭টি, গোবিন্দগঞ্জে ২১টি, পলাশবাড়ীতে ২টি ও সাঘাটা উপজেলায় ২টি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক অভিযোগ করে বলেন, দেশে প্রচলিত অনেক আইনই আছে যার প্রয়োগ নেই। ইটভাটা আইনের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। ইটভাটা মালিকরা যে যেভাবে পারছে তদবির করে ভাটায় ইট পুড়ছে, কারও তো কোন সমস্যা হচ্ছেনা। বরং আমরা যারা পরিবেশ ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসকের লাইসেন্স গ্রহণ করে লাইসেন্সের শর্ত সমূহ মেনে চলার চেষ্টা করছি তারাই বিভিন্ন ভাবে হয়রানীর স্বীকার হচ্ছি। তিনি অবৈধ ভাবে ইটভাটা স্থাপনের ক্ষেত্রে জেলায় গঠিত অনুসন্ধান কমিটির দায়িত্ব ও কর্তব্য অবহেলার বিষয়টি তুলে ধরেন। ছয় সদস্যের অনুসন্ধান কমিটিতে যারা রয়েছেন- জেলা প্রশাসক কর্তৃক মনোনীত একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এই কমিটির আহŸায়ক হবেন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় বা জেলা কার্যালয় কর্তৃক মনোনীত কোন কর্মকর্তা হবেন সদস্য সচিব। আর সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বা তৎকর্তৃক মনোনীত কোন বন কর্মকর্তা (ফরেস্টার পদের নি¤েœ নন) এই কমিটির সদস্য হিসাবে থাকবেন।

জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ হক্কানী বলেন, জেলায় প্রায় দেড় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ৩৩ টির। তিনি বলেন, কিভাবে লাইসেন্স বিহীন ইটভাটা বছরের পর বছর এভাবে চলতে পারে তা তার জানা নেই। অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় এ ধরনের ইটভাটার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইটভাটা মালিক আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি বছর ভাটায় আগুন দেয়ার আগে রাজস্ব ও আয়কর বাবদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিতে হয়। এছাড়ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের খুশি রাখতে হয়। কিন্তু বছরের পর বছর আমাদের অবৈধভাবে ইটভাটা চালাতে হয়।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধার পরিবেশ দেখভালের দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তরের বগুড়ার পরিচালক মোঃ আশরাফুজ্জামান মুঠোফোনে জানান, ইটভাটা স্থাপনের জন্য পরিবেশ ছাড়পত্র চেয়ে অনেক ভাটা মালিক আবেদন করেছেন। কিন্তু শর্ত পূরণ না হওয়ায় তাদের ছাড়পত্র দেয়া যাচ্ছে না।

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft

error: Content is protected !!