
নির্বাচন কমিশন বর্তমানে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যার কর্মকাণ্ডের উপর দেশের মানুষের ন্যুনতম আস্থাও নেই বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একটি সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই মুখপাত্র এ সময় বলেন, নির্বাচন কমিশন কখন কী করছে, কখন কী বলছে এ নিয়ে আমাদের কোন আগ্রহ নেই। কারণ ইতিধ্যেই এই কমিশন তাদের কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
এর আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, গ্রেফতার নির্যাতন উপেক্ষা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বিএনপি। এ সময় দু’একদিনের মধ্যে শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
গত শনিবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব তার দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানিয়ে বলেছিলেন, গ্রেপ্তার বন্ধ না করা হলে তাঁরা বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাবেন।
এ সময় মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছি, উনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনেও বলা হয়েছে। কিন্তু তা করা হচ্ছে না। উল্টো গ্রেপ্তার করাই হচ্ছে। আমরা আশা করব কামাল হোসেনের সংবাদ সম্মেলনের পর এই গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। অন্যথায় পরিবেশকে সুষ্ঠু করার জন্য ও নির্বাচনকে অর্থবহ করার জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় তফসিল ঘোষণার পর এ পর্যন্ত ৬৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন এবারের নির্বাচনের প্রার্থী রয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে এবং খালেদা জিয়াসহ অন্য নেতাদের মুক্ত করার জন্য তাঁরা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে অংশ নিচ্ছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দুঃখজনকভাবে তফসিল ঘোষণার পরও এখনো বেআইনিভাবে গায়েবি মামলায় নেতা-কর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। তিনি এ গ্রেপ্তার বন্ধ করে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান। তা না হলে এ নির্বাচন কখনোই জনগণের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না বলেও ফখরুল উল্লেখ করেন।