
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন প্রার্থীরা। বুধবার (২৮ নভেম্বর) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে ৬৪ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন জমা দিয়েছেন আরো একটি করে মনোনায়নপত্র। ফলে মনোনয়ন জমা পড়েছে মোট ৬৭টি।
আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জোট ও নিজ নিজ দলে প্রাথমিকভাবে মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বুধবার শেষ দিন হওয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ঢল নামে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার পর্যন্ত গাইবান্ধার ৫টি আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বিন্দ্বিতা করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি (জাপা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ মুসলীম লীগ, গণফ্রন্ট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ইসলামী ঐক্যজোট, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, জাকের পার্টি, গণফোরাম, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি ও স্বতন্ত্রসহ ৬৪জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বুধবার সকাল থেকেই জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারি রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার সেবাষ্টিন রেমা স্বাক্ষরিত একটি তালিকা থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
গাইবান্ধার ৫টি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাঁরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁরা হলেন-
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসন
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১৬ জন। এই আসনে আওয়ামী লীগ কোন প্রার্থী না দিলেও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আফরুজা বারী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। আর জামায়াত নেতা ও সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা মাজেদুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে আর জাতীয়পার্টি ও মহাজোট থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বর্তমান সাংসদ শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এই আসন থেকে মনোনয়ন দাখিল করা অন্যান্যরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের হাফিজুর রহমান সদ্দার, জেএসডির আব্দুর রাজ্জাক সরকার, গণতন্ত্রী পার্টির আবুল বাশার মো. শরিতুল্লাহ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের গোলাম আহসান হাবীব মাসুদ, বাসদের গোলাম রব্বানী শাহ, গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফুল ইসলাম খন্দকার, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মহসীন আলী, স্বতন্ত্র হিসেবে জয়নাল আবেদীন সাদা, কর্নেল (অবঃ) ডা. আবদুল কাদের খান, আবদুর রহমান, এমদাদুল হক ও এবিএম মিজানুর রহমান।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১১ জন। এই আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মাহাবুব আরা বেগম গিনি। এছাড়া সম্প্রতি জাতীয়পার্টি থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া জেলা জাপার সাবেক সভাপতি আব্দুর রশিদ সরকার বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র জমা দেন। এখানে জামায়াত কোন প্রার্থী দেয়নি। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অন্যান্যরা হলেন বিএনপি থেকে খন্দকার আহাদ আহমেদ ও মাহামুদ্দুন নবী টিটুল, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা যুবায়ের আহমদ, সিপিবির মিহির কুমার ঘোষ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আল আমিন, এনপিপির জিয়া জামান খান, স্বতন্ত্র হিসেবে একেএম রেজাউল কবীর, মকদুবর রহমান ও ওয়াহিদ মুরাদ দাখিল করেছেন মনোনয়নপত্র।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসন
গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ১৫ জনের মধ্যে মহাজোটের রয়েছেন আওয়ামী লীগের ডা. ইউনুস আলী সরকার, জাতীয়পার্টির দিলারা খন্দকার ও মনজুরুল হক এবং জাসদের খাদেমুল ইসলাম খুদি। দলীয়ভাবে তাদের প্রত্যেককে মনোনয়ন দেওয়ায় প্রত্যেকেই নিজ নিজ দলের হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে। কে হবেন এই আসনের মহাজোটের প্রার্থী। ফলে এই আসনটি নিয়ে মানুষের মধ্যে রয়েছে কৌতুহল। এদিকে জাতীয়পার্টির ছয়বারের সাবেক সাংসদ ড.টিআইএম ফজলে রাব্বী চৌধুরী এবার মনোনয়ন নিয়েছেন জাতীয়পার্র্টি (জাফর) থেকে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা হলেন রফিকুল ইসলাম, রওশন আরা খাতুন ও অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হানিফ দেওয়ান, বাসদের সাদেকুল ইসলাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মোস্তফা মনিরুজ্জামান, এনপিপির মিজানুর রহমান তিতুসহ স্বতন্ত্র হিসেবে আমিনুল ইসলাম, আবু জাফর মো. জাহিদ ও তৌফিকুল আমিন মন্ডল মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে বর্তমান সাংসদ আবুল কালাম আজাদের পরিবর্তে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক সাংসদ প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন চৌধুরীকে। এই আসনেও মহাজোটের জাতীয়পার্টির প্রার্থী কাজী মো. মশিউর রহমান যেমন আছেন তেমনি বিএনপির ওবায়দুল হক সরকার, ফারুক কবির আহমদ, মোহাম্মদ শামীম কায়সার ও একেএম আমিনুল ইসলামের পাশাপাশি স্বতন্ত্র হিসেবে জেলা জামায়াতের আমীর আবদুর রহিম সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন অন্য প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সৈয়দ তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির ছামিউল আলম, এনপিপির খন্দকার মো. রাশেদ, জাকের পার্টির আবুল কালাম, গণফোরামের আবদুর রউফ আকন্দ, মুসলিম লীগের সানোয়ার হোসেন।
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসন
গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা ৯ জন প্রার্থীর মধ্যেও রয়েছে মহাজোটের প্রার্থী। এখানে আওয়ামী লীগ থেকে রয়েছেন বর্তমান সাংসদ ফজলে রাব্বী মিয়া ও জাতীয় পার্টি থেকে সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া এএইচএম গোলাম শহীদ রঞ্জু। আগামীতে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করলেই নির্ধারিত হবে কে হবেন মহাজোটের প্রার্থী। এই আসনে বিএনপি থেকে রয়েছেন শাহ্ মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, মোহাম্মদ আলী, নাজেমুল ইসলাম প্রধান ও ফারুক আলম সরকার, সিপিবির শ্রী যজ্ঞেশ্বর বর্মন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুর রাজ্জাক মন্ডল এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির আমিনুল ইসলাম গোলাপ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কমিশনের বিধান অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দিতে প্রার্থীরা তাদের দলীয় ও সমর্থকদের নিয়ে নেতাকর্মী নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ছোট দলগুলো নিয়ম মেনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও বড় দলগুলোতে এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা গেছে। তবে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও শান্তিপুর্ণভাবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, আগামী ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৯ ডিসেম্বর ও প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১০ ডিসেম্বর। আর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে গাইবান্ধার ৫টি আসনে ৬’শ ৫টি ভোটকেন্দ্রের তিন হাজার ৫’শ ২টি বুথে ১৭ লাখ ৮৪ হাজার ৫৪৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।