
বিএফইউজের সভাপতি ও একুশে টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেছেন, ৩২ ধারায় গুপ্তচর বৃত্তি শব্দ বাদ দিয়ে পুরনো আইন অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টকেই আনা হলো। অফিসিয়াল সিক্রেসি ধারাটি নিয়ে সরকার কর্তৃপক্ষ বলছে, এটার অপপ্রয়োগ হওয়ার আশঙ্কা নেই। কিন্তু আমরা দেখছি- সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার স্বাধীনতাই বাধাপ্রাপ্ত হবে। অপপ্রয়োগ তো পরের বাধা।
মঙ্গলবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের এপিঠ-ওপিঠ শীর্ষক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। একটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ওই বৈঠকটির আয়োজনে করে।
বুলবুল বলেন, আমরাও চাই দেশের স্বার্থে আইনটি হোক। আমরাও এটাকে শতভাগ সমর্থন করি। কিন্তু আইনটি সংবাদ মাধ্যম বা মূল ধারার সাংবাদিকদের ওপর যেন অপপ্রয়োগ না হয়, সেদিক বিবেচনা করেই একটি পদ্ধতি রাখা হোক।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদেরকে জনস্বার্থে কাজের স্বাধীনতা দেয়া হোক। কিন্তু আইন হওয়ার পর সাংবাদিকদের ওপর অপ্রপ্রয়োগ হলে তারপর ব্যবস্থা নেবেন, এটা তো যুক্তিযুক্ত নয়।
সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. মো. গোলাম রহমান বলেন, আইনটিতে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হবে সাংবাদিকরা। এমন আশঙ্কাই তৈরি হয়েছে। কারণ, ৫৭ ধারা দিয়ে সেটা অনেকটাই বোঝা গেছে। ফলে ৩২ ধারারও অপপ্রয়োগ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, অতীত ইতিহাস তাই বলে। আর তাই নতুন করে এই প্রশ্নের তৈরি হয়েছে। ফলে এমন কোনও সুযোগ রাখা উচিত— যাতে পুলিশ বা অন্য কেউ ইচ্ছা করলেই এর অপপ্রয়োগ না করতে পারে। কিন্তু, আমার প্রশ্ন এখন সময়টা ডিজিটাল সময় অথচ ৩২ বছর আগের ধারা নতুন করে আনা হলো। বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিল রেখে আইনটি হওয়া উচিত ছিল।
মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় বৈঠকে আরো অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসি’র চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল প্রমুখ।