
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিধিমালার বিভিন্ন ধারার পরিবর্তন আনতে খসড়া তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন ইসি। এতে ৩০০ সংসদীয় আসনে পুরো কিংবা আংশিকভাবে ইভিএমে ভোট নেওয়ার বিধান যোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো ভোটার পছন্দের দলীয় প্রতীক কিংবা প্রার্থীর প্রতীক চিহ্নটি ভুলে গেলে সবুজ (ভোটদান সম্পন্ন) বাটন চাপ দেওয়ার আগে লাল বাটন চেপে প্রতীক নির্বাচন করে তার ভোট দিতে পারবেন। ভোটের তথ্য সংরক্ষণে ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটে একটি স্মৃতি ভান্ডার (মেমরি স্টোরেজ) অন্তর্ভুক্ত রেখেছে ইসি।
এই প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য স্বতন্ত্র কারিগরি কমিটি কাজ করবে। এ ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক এড়াতে ইভিএমে ভোটদান প্রক্রিয়া নির্বাচনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের পর ৩০দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ থাকবে। এই বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় ভোট নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।
এর আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধন-সংক্রান্ত আইনের খসড়া অনুমোদন দেয় ইসি; যা ভেটিং পর্যায়ে রয়েছে। এখন এর আলোকে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার-সংক্রান্ত বিধিমালা তৈরি করেছে ইসি। বিধির ৩ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএমের মাধ্যমে কোনো নির্বাচনী এলাকার সকল বা আংশিক ভোটকেন্দ্রের ভোট গ্রহণ করা হবে।
বিধি ৪(১)এ ইভিএম গঠন প্রক্রিয়ায় বলা হয়েছে, ব্যাটারি অথবা বিদ্যুৎ চালিত একটি কন্ট্রোল ইউনিট ও ব্যালট ইউনিট সমন্বয়ে ইভিএম; যা আন্তসংযোগের মাধ্যমে কার্যকর থাকবে এবং কমিশনের অনুমোদিত ডিজাইন অনুযায়ী প্রবর্তন হবে।
বিধি ৩ (২) এ কন্ট্রোল ইউনিটে ডিসপ্লে স্ক্রিন, ডিসপ্লে সফটওয়্যারকে পরিচালনার জন্য বাটন, তথ্য ইনপুট দেওয়ার জন্য নম্বর প্লেট, ইনবিল্ট ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার, ইনবিল্ট থারমাল প্রিন্টার, স্মার্ট কার্ড এইচডিএমআই পোর্ট ছাড়াও ব্যালট ইউনিট সংযুক্ত করার জন্য থাকবে সকেট বা পোর্ট।
বিধির ৫ ধারায় বলা হয়েছে, ইভিএম কম্পিউটার ভিত্তিক, যাহা অপারেটিং সিস্টেমে চলবে, এটিকে সক্রিয় করতে থাকবে নির্দিষ্ট পিন ও পাসওয়ার্ড এবং মেশিনের জন্য নির্ধারিত কার্ড ব্যবহার হবে। বৈধ ভোটার সংক্রান্তে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর ভোটের তথ্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিটি ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিটে একটি স্মৃতি ভান্ডার থাকবে।
বিধির ১১(৪) বিধিতে বলা হয়েছে, ভোটদান শুরুর আগে উপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী এবং পোলিং এজেন্টরা ডেমো ভোট দিয়ে মেশিনটির কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা যাচাই করবেন। এ ছাড়া অন্ধ কিংবা অক্ষম ভোটাররা প্রিসাইডিং অফিসারের সহায়তায় মনোনীত কোনো ব্যক্তিকে দিয়ে ভোটদান সম্পন্ন করা, যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ইভিএমে ভোট বন্ধ হলে পুনরায় ত্রুটি সংস্কার করে এসডি কার্ড, অডিট কার্ড ও পোলিং কার্ড প্রবেশ করে ভোটদান শেষ করা, ভোটকেন্দ্রে হামলা হলে কন্ট্রোল ইউনিটে ব্যবহৃত পোলিং কার্ডটি কন্ট্রোল ইউনিট থেকে সরিয়ে ফেলা এবং সমাধান হলে পুনরায় ভোট চালু করা এবং ইভিএমের প্রয়োগে কোন ধরনের নিয়মের ব্যত্যয় হলে অপরাধের জন্য ধারা ৯৩ অনুযায়ী, শুধু অর্থ দন্ডে দন্ডিত হবেন।