
২০০৪ সালের একুশে আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার এক সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জনের প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার রায়কে ঘিরে আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়েছে মহানগর পুলিশ।
নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের উল্টোদিকের ভবনে আদালতের কার্যক্রম শুরুর জন্য সকাল থেকেই সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। চারদিকে ব্যাপক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
শুধু সড়কে নয়, আশেপাশের ভবনের ছাদেও পুলিশ রয়েছে। আদালত ঘিরে চারপাশের সড়কগুলোয় ব্যারিকেড তৈরি করেছে পুলিশ। এখন সেখানে কোন যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। মানুষজনকেও চলাফেরার ক্ষেত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এখনো কারাগারে অভিযুক্তদের আনা হয়নি। তাদেরকে কাশিমপুর কারাগার থেকে নিয়ে আসা হচ্ছে।
এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল -১ এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আশেপাশের সড়কগুলোয় র্যাব ও পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে।
সকাল ১০টার দিকে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কেউ যদি নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা করে, তাহলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘এই রায়কে ঘিরে সবাই উত্তেজনার মধ্যে আছে। আইনি প্রক্রিয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। অন্য সব মামলার রায় যেভাবে হয়ে থাকে, এটি তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। এ মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির সুযোগ নেই।’
‘আমরা দেশবাসীর নিরাপত্তার জন্য কঠোর নিরাপত্তা নিয়েছি। আমি বলতে চাই, কেউ যদি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার, নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে বরদাশত করা হবে না। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে। কেউ যদি নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করে তাহলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না,’ যোগ করেন আছাদুজ্জামান মিয়া।
বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের গাড়ি আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে আদালত চত্বরে প্রবেশ করতে দেখেছেন সেখানে কর্তব্যরত গণমাধ্যমকর্মীরা। এই রায়কে ঘিরে আদালত চত্বরে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। সকাল ১০টার দিকে আদালত চত্বরে আসেন ডিএমপি কমিশনার। পরে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।সূত্র-আরটিএনএন