
সিঙ্গাপুরের সেফিয়া ফারিদ নামের একজন নারী দেশটির বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে মুসলিম নারীদের অবজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি তার ফেইসবুক একাউন্টে দেয়া একটি পোস্টে বলেন, হিজাব পরিধান করার কারণে তিনি একটি সরকারি চাকরিতে আবেদন করতে গিয়ে বৈষম্যের শিকার হন।
তার মতে, তিনি একটি সরকারি চাকরিতে আবেদন করেত গেলে তাকে তার হিজাব খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল। সাধারণত মুসলিম নারীরা মাথা ঢেকে রাখে এমন একটি পোশাক পরিধান করেন এবং একেই হিজাব বলা হয়।
বুধবার তিনি ফেইসবুকে একটি পোস্টে লিখেন, ‘আমি বিভিন্ন বর্ণের এবং ধর্মের মিশ্রণে বৈচিত্র্যপূর্ণ সিঙ্গাপুরের একজন মুসলিম নারী।’
‘আমি যখন সাক্ষাৎকার দিতে যাই তখন আমাকে বলা হয়েছিল যে, আমার যোগ্যতার ব্যাপারে বোর্ড সন্তুষ্ট। তবে যেটা আমাকে আতঙ্কিত করেছিল তা হচ্ছে, তারা মুসলিম নারীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।’
সেফিয়া আরো যুক্ত করে বলেন, বোর্ডের সদস্যরা তাকে বলেছিলেন- ‘আপনি যদি নিয়োগ প্রাপ্ত হতে চান তবে আমরা চাই আপনি আপনার হিজাব খুলে ফেলুন। এই পদের জন্য আপনি উপযুক্ত তবে আপনার হিজাব নয়।’
এ ধরনের মন্তব্য শোনার পরে সেফিয়া জানান, ‘আমি খুবই মর্মাহত হয়েছিলাম এবং সাথে সাথে চাকরিতে যোগদানের ব্যাপারে না বলে দিয়েছিলাম। আমি এমন করেছিলাম কারণ একটি সরকারি চাকরির জন্য আমি আমার হিজাব খুলে ফেলতে পারি না।’


তিনি এই বলে তার ফেইসবুক পোস্ট শেষ করেন, ‘বিভিন্ন বর্ণ এবং ধর্মের বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ সিঙ্গাপুরে এমনটি ঘটছে তা চিন্তা করে আমি খুব লজ্জা পাচ্ছি।’
তবে সেফিয়া দেশটির কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের নিকট চাকরির আবেদন করেছিলেন তা জানান নি। তিনি শুধু এটুকু বলেছেন যে, এটি ছিল এমন কর্তৃপক্ষ যারা চাকরিতে সুনির্দিষ্ট পোশাক পরিধান বাধ্যতামূলক করেনি।
সেফিয়ার ফেইসবুক পোস্টে যারা মন্তব্য করেছে, তাদের অধিকাংশই তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
তার ফেইসবুক পোস্টে রাশিদা আফান্দি নামের এক নারী মন্তব্য করে বলেন, ‘এই ঘটনা দ্বারা আমি মোটেও বিস্মিত হইনি। শুধুমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। আমাকে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সাক্ষাৎকারে হিজাব খুলে ফেলতে বলা হয়েছিল।’
কেইসেন সিরি নামের আরেকজন মন্তব্য করে বলেন, ‘বোন সেফিয়া ফরিদ। আপনি ভেঙ্গে পড়বেন না। খারাপ অনুভব করার মত কিছুই হয়নি। আমাদেরকে নিয়ে সবসময় সৃষ্টিকর্তার একটা পরিকল্পনা থাকে।’
ডায়ানা ডি নামের আরেকজন মন্তব্য করে বলেন, ‘আমি নিজেও অনেক চাকরির সাক্ষাৎকারে এধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। তারা আমাকে tudung (সিঙ্গাপুরের মুসলিম নারীদের হিজাব হিসেবে পরিহিত একধরনের পোষাক) খুলে ফেলতে বলেছিল। এমনকি আমার রাজনৈতিক দলের একজন নেতা আমাকে বলেছিলেন, তুমি তোমার tudung এর জন্য কোনোদিন কোনো চাকরি পাবে না।’
সূত্রঃ দ্যা ইন্ডিপেন্ডন্ট।