
আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, সম্পাদক পরিষদসহ বিশিষ্টজনের সাথে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তে পৌছেছি যে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন থাকা জরুরি। কিন্তু আইনের কিছু কিছু ধারা নিয়ে আপত্তি উঠেছে। আইনটির ধারাগুলো হলো ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩, ৫৩। এই নয়টি ধারা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন সম্পাদক পরিষদ।
রবিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন- আমি তথ্যমন্ত্রী ও আইসিটি মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি। ৩ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার যে বৈঠক হবে সেখানে এই আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হবে।
বৈঠকে আইনমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আবুয়াল হোসেন প্রমুখ।
সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগান্তর-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ইনডিপেনডেন্ট সম্পাদক এম শামসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর সম্পাদক নঈম নিজাম, ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, সমকাল-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি প্রমুখ।
আলোচনার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে মাহফুজ আনাম বলেন, তারা মনে করেন, যে আইনটি সংসদে পাস হয়েছে সেটা সংবিধানে বাক ও গণমাধ্যমের যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তার লঙ্ঘন করবে। এটি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও গণতন্ত্রেরও পরিপন্থী। ওনারা আশ্বাস দিয়েছেন, আলোচনা করে সমঝোতায় আসতে পারবেন।
এর আগে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর আইনটির প্রতিবাদে মানববন্ধনের কর্মসূচি দিয়েছিল সম্পাদক পরিষদ। এরপর তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছিলেন। তার ওই অনুরোধে সাড়া দিয়ে সম্পাদক পরিষদ মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করে আজকের আলোচনায় অংশ নেয়।সূত্র-আরটিএনএন