
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরোয়ানা বা অনুমোদন ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশকে। বাংলাদেশের সংসদে পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কোন পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশকে গ্রেফতারের যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সেটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করবে বলে আশংকা করছেন সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীরা। খবর বিবিসি।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রস্তাবে পরোয়ানা ছাড়া পুলিশকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল যেই ধারার অধীনে, সেই ধারায় সংসদীয় কমিটি প্রস্তাব করেছিল যে পরোয়ানা ছাড়া কাউকে গ্রেফতার করা বা ব্যক্তিমালাকানাধীন ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি বা জব্দ করার ক্ষেত্রে সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। খবর বিবিসি।
তবে শেষমুহুর্তে মহাপরিচালকের অনুমোদন নেয়ার বিধানটি বাদ দিয়ে সংসদে পাস হয়েছে বিলটি। অর্থাৎ একজন পুলিশ অফিসার এখন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সন্দেহভাজন ব্যক্তির ব্যবহার করা ডিজিটাল ডিভাইস তল্লাশি ও জব্দ করাসহ ঐ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করতে পারবেন।
কেন বাদ দেয়া হলো মহাপরিচালকের অনুমোদন নেয়ার বিধান, মহাপরিচালকের অনুমোদনের বিধানটি কোন যুক্তিতে বাদ দেয়া হলো, সেবিষয়ে বাংলাদেশের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, “একটি ঘটনা ঘটার সময় পুলিশের যদি মহাপরিচালকের অনুমতির অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে অন্তত ডিজিটাল অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়।”
জব্বার বলেন অপরাধ সংঘটনের সময় যেন পুলিশ আমলাতান্ত্রিক জটিলতার শিকার হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধাগ্রস্থ না হয় সেজন্যেই বাদ দেয়া হয়েছে মহাপরিচালকের অনুমোদনের বিধানটি।
“অপরাধ সংঘটনের সময় পুলিশ যদি পদক্ষেপ নিতে না পারে, তাহলে তো অপরাধ সংঘটিত হয়েই যাবে, সেটিকে আর থামানো যাবে না”, বলেন মি. জব্বার।