
গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা গ্রামের মৃত চেচারু বর্মনের ছেলে প্রতিমা কারিগর দুলাল চন্দ্র বর্মনের পৈত্রিক সম্পত্তি সন্ত্রাসী কায়দায় জবর দখল করে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে তার আপন কাকা ভবেশ চন্দ্র বর্মন ও তার সন্ত্রাসী সহযোগীরা। ফলে স্ত্রী, পুত্র, কন্যা ও বিধবা মাকে নিয়ে জীবন বাঁচাতে প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি আশ্রয় নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে দুলাল চন্দ্র। এব্যাপারে সাদুল্যাপুর থানায় একাধিক মামলা দায়ের করেও কোন প্রতিকার পায়নি এই অসহায় পরিবারটি। উল্টো পুলিশ তার কাকার পক্ষ অবলম্বন করে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের হুমকি দিয়ে আসছে। সেজন্য ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবর দখল করা সম্পত্তিতে বসবাসের অধিকার ও জীবনের নিরাপত্তাসহ সন্ত্রাসীদের আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
প্রতিকার দাবিতে আজ ২ সেপ্টেম্বর রোববার গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবে দুলাল চন্দ্র বর্মন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে হৃদয় বিদরক ঘটনার বর্ণনা করেন দুলাল চন্দ্র বর্মনের বিধবা মা দয়া রাণী বর্মন ও তার স্ত্রী স্বপ্না রাণী বর্মন। এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দুলাল চন্দ্র। গ্রামবাসিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এন্তাজ ব্যাপারী, আব্দুল প্রামানিক, আব্দুর রউফ, বাদশা মিয়া, ফরিদ মিয়া, আব্দুস সামাদ প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে উলে¬খ করা হয়, নলডাঙ্গা গ্রামের রমনী কান্ত বর্মনের ছেলে সন্ত্রাসী প্রকৃতির ভবেশ চন্দ্র বর্মন, মিঠু চন্দ্র বর্মন, মিন্টু চন্দ্র বর্মন ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সহযোগীদের নিয়ে দুলাল চন্দ্রের পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত ৩৩ শতক জমিসহ বসতবাড়ি জবর দখল করে নেয় (মৌজা- নলডাঙ্গা, জেএল নং ২, খতিয়ান নং ৬১৫/২ দাগ নং ৩০৯৯, ৩১০০, ৩১০১, ৩১০২, জমি ৬৬ শতকের মধ্যে ৩৩ শতক জমি)। এব্যাপারে নলডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নকে বিষয়টি জানানো হলে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকে কাগজপত্র সঠিকভাবে পেয়ে উক্ত জমির মালিকানা দুলাল চন্দ্রকে রায় দিয়ে ভবেশ চন্দ্র বর্মনকে জমি ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়।
এর জের ধরে গত ১৭ এপ্রিল ভবেশ চন্দ্র ও তার সহযোগীরা দুলালের বাড়িতে জোর পূর্বক প্রবেশ করে পূজা মন্ডপের কৃষ্ণ দেবতার মুর্তিসহ অন্যান্য মুর্তি ভাংচুর করে। এপর্যায়ে তার বিধবা মা, সন্তান ও স্ত্রীকে মারপিট করে এবং স্ত্রী স্বপ্না রাণীর শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। পার্শ্ববর্তী লোকজন তাদের চিৎকারে এগিয়ে এসে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে তাদের উদ্ধার করে।
এব্যাপারে সাদুল্যাপুর থানায় গত ২২ এপ্রিল (মামলা নং ২৫) দায়ের করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।