
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ সভায় দ্ব্যর্থহীনভাবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন।
অন্যদিকে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট ইরানের পরমাণু চুক্তিকে আরো একবার ‘মিথ্যা’ বলে অভিহিত করার জন্য এই সভাকে ব্যবহার করেছেন।
‘জেরুজালেম বিক্রির জন্য নয়’ এই বাক্য দিয়ে আব্বাস তার ভাষণ শুরু করলে সভাকক্ষে উপস্থিতরা তাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান।
এরপর তিনি একে একে ইসরাইলের ‘জাতিবিদ্বেষী’ নেশন স্টেট ল, ইসরাইলের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের ঢালাও সমর্থন এবং আন্তর্জাতিকভাবে ও জাতিসংঘে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এই দেশ দু’টির প্রত্যাখ্যান করার সমালোচনা করেন।
‘এই আইন একটা জাতিবিদ্বেষী রাষ্ট্র তৈরি করবে, একটা বর্ণবৈষম্যমূলক রাষ্ট্র গঠন করবে এবং এর ফলে দ্বি-রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমাধান ব্যর্থ হবে,’ মন্তব্য করেন আব্বাস।
যুক্তরাষ্ট্র তেল-আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেয়ার পর এটা জাতিসংঘে দেয়া প্রথম ভাষণে আব্বাস জানান, ফিলিস্তিনিরা এখন যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন চোখে দেখছে এবং তারা দেশটিকে এখন আর নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী বলে মনে করে না।
‘এই (ট্রাম্পের) প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের আগের সব প্রতিশ্রুতি পরিত্যাগ করেছে এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান প্রস্তাবকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে,’ বলেন তিনি।
পিএলও’র নেতা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলের বিষয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত বলবৎ করার জন্য জাতিসংঘের প্রতিও আহ্বান জানান।
ইসরাইল ১৯৪৯ সাল থেকে সাধারণ সভায় গৃহীত সাতশ’রও বেশি সিদ্ধান্তের একটিও বাস্তবায়ন করেনি বলে জানান তিনি।
ভাষণে আব্বাস একাধিকবার বলেন, পিএলও শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং তারা সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে। কিন্তু, এই সহযোগিতা দু’পক্ষকেই দেখাতে হবে এবং অন্য দেশ চুক্ত ভঙ্গ করলে ফিলিস্তিন সেটি মেনে চলতে বাধ্য থাকবে না।
শহীদ ও বন্দিসহ সব ফিলিস্তিনিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষণ শেষ করার সময় আবাস বলেন, ‘আমরা দ্রুত স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং দখলদারিত্বের অন্ধকার শিগগিরই কেটে যাবে।’