
চারিদিকে মৃত্যুর হাহাকার, স্বজন হারানোর আর্তনাদ। ভিটে মাটি খোওয়ানোর যন্ত্রণা। তারই মাঝে বিতর্কিত বক্তব্যের বিরাম নেই কেরলের বন্যার্তদের নিয়ে।
গত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু উগ্র ধর্মান্ধ বক্তব্য ঘুরপাক খাচ্ছে। বেশ কয়েকজন ধর্মের কারবারিদের বক্তব্য কেরলের বন্যার্তরা নাকি গোমাংস খাচ্ছেন।
মহিলাদের নাকি সবরিমালা মন্দিরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে আশ্রয়ের জন্য। এই বক্তব্যের মোকাবিলা করতে প্রশাসন তৈরি থাকলেও হিন্দু ধর্মের গোঁড়া ভক্তরা তা মানতে রাজি নয়।
তেমনই বক্তব্য সামনে এল বুধবার। অখিল ভারতীয় হিন্দু মহাসভার প্রধান স্বামী চক্রপাণির মত যে সব বন্যার্ত গো মাংস খাবেন, তাদের যেন সেনা কোনওভাবেই উদ্ধার না করে। বরং যারা নিয়ম মেনে কোনও প্রাণী হত্যা না করে লড়াই করছেন বেঁচে থাকার জন্য, তাদের উদ্ধার করা পুণ্যের কাজ। গোহত্যাকারীদের বন্যা থেকে উদ্ধার করার অর্থ নতুন করে পাপ করা, পাপকে সমর্থন করা।
স্বঘোষিত এই ধর্মগুরু এদিন বলেন প্রচুর নিরীহ মানুষ মারা গিয়েছেন কারণ কেরলের কিছু মানুষ গোমাতাকে হত্যা করেছে, গোমাংস বিক্রি করেছে।
সেই পাপেই কেরলের এই অবস্থা। চক্রপাণি বলেন সেনার কাছে আবেদন হিন্দুদের সাহায্য করুন, কারণ তারা গোমাংস খান না। তারা সমাজ, প্রকৃতিকে রক্ষা করেন।
কিন্তু যারা পশু হত্যা বিশেষ করে গোহত্যা করছেন, তারা কোনও সাহায্য পাওয়ার অধিকারী নন। তারা পশু হত্যা করে পাপ করছেন।
বন্যা বিপর্যস্ত কেরল। ভেঙে গিয়েছে একাধিক বাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, ব্যাহত বিমান ও রেল পরিবহণ ব্যবস্থা। কেরল জুড়ে বিশেষত ত্রিচুর, অলুভা, মঞ্জুমালা, ইদুক্কি, মুপ্পাথাডাম ও মুভাট্টুপুজায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। আরও বেশ কয়েকটি ভূমি ধসের ঘটনাও ঘটেছে।
তাই এর মাঝে এই সব প্রশ্নে মনুষ্যত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে৷ ‘হিন্দু না ওরা মুসলিম, ওই জিজ্ঞাসে কোনজন, কান্ডারি! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার’- এই নীতিতে আদৌও বিশ্বাস রাখেন ধর্মের ধ্বজাধারী এই সব মানুষ? জানতে চায় মানবিকতা।