শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন
৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
সৌদির সাথে মিল রেখে পলাশবাড়ীতে ঈদ উদযাপন ব্রহ্মপুত্রে ধরা পড়ল ৯০ কেজির বাঘাইর: ১ লাখে বিক্রি, মাছ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় লালমনিরহাটে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শতাধিক পরিবারের ঈদ উদযাপন তারাগঞ্জে মঞ্জুরুল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ১,বেরিয়ে আসছে পরিকল্পিত খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পলাশবাড়ীতে বাসচাপায় অজ্ঞাত নারী নিহত গাইবান্ধায় খালের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু গোবিন্দগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল যুবক গ্রেফতার লালমনিরহাটে ঈদ উপলক্ষে ‘রোজ’ এনজিওর খাদ্য সহায়তা বিতরণ বিশ্বকাপ নয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব : ইরান ফুটবল প্রধান লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬ মোবাইল ও ২৪ সিম

মিরপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ-যুবলীগের হামলা, নতুন করে উত্তেজনা

  • আপডেট হয়েছে : বৃহস্পতিবার, ২ আগস্ট, ২০১৮
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

বহুল আলোচিত ইস্যু নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে। একদল যুবক লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। এতে বেশ কিছুসংখ্যক শিক্ষার্থী রক্তাক্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও লাঠিয়াল যুবকদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সারাদেশে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের এ হামলা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে জানিয়েছেন আজিমপুর মোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালনকারী সাদ্দাম নামের এক শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, বিকাল ৪টা দিকে মিরপুর-১৩ ও ১৪ নম্বরের মধ্যে বিআরটিএ থেকে কাফরুল থানা হয়ে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের গেইট পর্যন্ত সড়কে এই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

সংঘর্ষের পর একাধিক শিক্ষার্থীকে সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

ওই ঘটনায় আহত এক কলেজছাত্র বলেছেন, মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে তাদের মানবন্ধন কর্মসূচি চলছিল। পুলিশ তাদের সরাতে গেলে শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল ছুড়তে শুরু করে।

তখন পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বেশ কিছু সময় বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে একদল যুবককেও লাঠি হাতে শিক্ষার্থীদের পেটাতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণ মানবন্ধন করছিলাম। পুলিশ হঠাৎ এসে আমাদের লাঠিপেটা শুরু করেছে। পরে তাদের সঙ্গে স্থানীয় যুবলীগও যোগ দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্লবী জোনের সহকারী কমিশনার ইয়াসমীন সাইকা পাশা বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো কারণ ছাড়াই কাফরুল থানায় হামলার চেষ্টা করে। পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান ফটক ভেঙে ফেলার চেষ্টা করে। তারা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। তখন তারা সরে ১০ নম্বর গোল চত্বরের দিকে যায়।

সে সময় পুলিশের সঙ্গে লাঠি হতে কারা ছিল- সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে। এ বিষয়ে যুবলীগের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ে বাকবিতণ্ডা থেকে নিজেদের মধ্যে মারামারিতে আহত হয়েছে তিন শিক্ষার্থী।

বিকাল ৪টার আগে আগে ওই মারামারির পর স্কুল ইউনিফর্ম পরা তিন ছাত্রকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

বেলা আড়াইটার দিকে এই সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়েই এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে মারধর করে তার মোটরসাইকেলে আগুন দেয় শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে বিকালে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ের পুলিশ বক্সে তালা মেরে সেখান থেকে চলে যান ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

এদিকে দিনভর নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, মিরপুর রোড, ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে।

গত তিনদিন ধরে চলমান ছাত্র বিক্ষোভ সামাল দিতে বৃহস্পতিবার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি বলে মনে হচ্ছে।

বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছিলেন। ফলে শহরের বিভিন্ন সড়কে শত-শত যানবাহন আটকা পড়েছে। দীর্ঘ সময় পরিবহন না পেয়ে রিক্সা কিংবা হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করছেন অনেকে।

গত কয়েকদিনের মতো আজও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাস্তায় চলাচলরত যানবাহনের চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছেন। শহরের বিভিন্ন মোড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেলেও সে তুলনায় পুলিশের উপস্থিতি তেমন একটা চোখে পড়েনি।

এদিকে ঢাকার মিরপুরে পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এর সামনের রাস্তায় পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের গোলযোগের খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা শহর জুড়ে আজও পাবলিক বাস খুব একটা চলাচল করতে দেখা যায়নি। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি রাস্তায় বের করেননি। যারা রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন তাদের কেউ-কেউ বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

ঢাকা থেকে দূরপাল্লার কোন বাস চলাচল করছে না। পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহর এবং রাজশাহীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে।সূত্র-আরটিএনএন

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft