
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মীমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথার বলার সময় জাহাঙ্গীর আলম এ আহ্বান জানান। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বাবারা, তোমরা যারা রাস্তায় কষ্ট করছো, তোমরা ঘরে ফিরে যাও।’
দিয়ার বাবা বলেন, ‘আশা করি শক্ত বিচার পাবো। প্রধানমন্ত্রী নিজের মুখে বলেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন এটা কেউ চাপিয়ে রাখতে পারবে না। এর বিচার হবেই। বিচারটা হয়ে গেলে আমরা দেশের মানুষ শান্তি পাবো। বিচার হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সমবেদনা-সান্ত্বনা দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুবই কৃতজ্ঞ।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিয়ার বাবা ছাড়াও দেখা করতে যান তার মা রোকসানা বেগম, বড় বোন রোকেয়া খানম রিয়া ও ছোট ভাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম আরাফাত। দেখা করতে যান একই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আবদুল করিমের পরিবারের সদস্যরাও।
সেখানে প্রধানমন্ত্রী শোকাহত দুই পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং প্রত্যেক পরিবারকে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র অনুদান দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।
গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর হোটেল র্যাডিসনের বিপরীত পাশের জিল্লুর রহমান উড়ালসড়কের ঢালের সামনের রাস্তার ওপর জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) ও দিয়া খানম ওরফে মীম (১৬) নিহত হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে তখন থেকেই ঢাকার রাজপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকারের তরফ থেকে সড়ক পরিবহন আইন পাসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।