
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী এখন দফায় দফায় উপূর্যপরি সড়ক দূর্ঘটনার কবলে। একই দিনে রাতে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে মঙ্গলবার ভোর রাতে তৃতীয় দফায় সড়ক দূর্ঘটনায় কোচের চাকায় পিষ্ট হয়ে আবারো এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শি,থানা ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে যাত্রী বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষজন বিরামহীন কোন না কোন যানবাহন যোগে স্বজনদের সান্নিধ্য লাভে ঘরে ফেরা অব্যাহত।
আজ বাদ কাল ঈদ।নারীর টানে ঘরে ফিরতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত দূর্ঘটনায় অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছেন।মারাত্মক আহতের কবলে অনেকেই সারাজীবনের জন্য হয়ে পড়ছেন পঙ্গু। স্বজন হারানো মানুষের আহাজারি অনিরাপদ জনতা আজ আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে এ মহাসড়কে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার পর-পর দু’টি পৃথক সড়ক দূর্ঘটনায় ৪ ব্যক্তি নিহত এবং ৯ ব্যক্তি মারাত্মক আহত হন।
কয়েক ঘন্টা যেতে না যেতেই ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে পলাশবাড়ী এলাকায় সামান্য দূরত্বের ব্যবধানে তিনটি দূর্ঘটনা ঘটে। সোমবার দিনগত ভোররাতে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হয় আরো একটি লাশ।এদিন বিকেলে গাজীপুর মাওয়া চৌরাস্তা থেকে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের ৩০/৩৫ জন যাত্রী মিলে রংপুর মডার্ণ চত্বর পর্যন্ত একটি ট্রাক রিজার্ভ করেন।
রাত সাড়ে ৩ টা নাগাদ উপজেলা সদরের উত্তর পাশে পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন একটি হোটেলে ট্রাকটি যাত্রা বিরতি করে।খাওয়া শেষে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে আবারো ট্রাকটি রওনা করে।কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী এলাকার মোতালেব হোসেন(৩০) একই সময় উঠতে না পারায় সে ট্রাকটির পিছু দৌড় দেন।অসাবধানতা বশত এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী একটি কোচ চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
একই সাথে থাকা নিহত মোতালেবের বন্ধু পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ এলাকার আখের আলীর ছেলে মেহেদী হাসান জানান তারা একই সাথে ঢাকার মেম্বরবাড়ী ভবানিপুর এলাকায় একটি কারখানায় ওয়াশিং প্লান্ট কোয়ালিটি পদে কাজ করতেন।ঘনিষ্ট বন্ধুকে হারিয়ে মেহেদী এসময় নানা বিলাপসহ হাউমাউ কান্না করে মাটিতে লুটে পড়ে বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে গাইবান্ধার সহকারি পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো.রেজিনুর রহমানসহ গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ গোবিন্দগঞ্জ নেয়া হয়। সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেন কোন ভাবেই থামছে না।
ঈদে ঘরে ফেরার এ সময়ে সোমবার সকাল হতে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সড়ক দূর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়। জেলা প্রশাসনের প্রশাসকের পক্ষ নিহত প্রত্যক পরিবার কে ১০ হাজার করে টাকা প্রদান করা হয়।
এপর্যন্ত নিহত ৫ জন হলো পলাশবাড়ী উপজেলা সদরে উদয়সাগর গ্রামের আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান (৫০) তার ছেলে আব্দুর রহমান,পীরগঞ্জের ইসলাম পুরের রাসেল ও তার স্ত্রী আর্জিনা,নাগেশ্বরীর মোতালেব হোসেন (৩০)।