
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীসহ জেলার সর্বত্র একসাথে সরকারি চাকুরি আর চিকিৎসার ব্যবসা চলছে নিত্যদিন। এতো নতুন নয় চলছে এ পথ অবিরাম। জেলা ও উপজেলা গুলোতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে ক্লিনিক ও মিনিক্লিনিক। এসব ক্লিনিকে প্রতারণা অব্যহত আছে উপজেলা জুড়ে। এগুলো প্রতিষ্ঠানের নিজেস্ব ও সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে থাকা এক শ্রেনীর দালাল চক্র। এসব ক্লিনিকে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় কোন রোগী নিহত হলে বা কোন ক্ষতি হলে রোগীর স্বজনদের ম্যানেজ করেন এ দালাল চক্র ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা। নিহত বা ক্ষতিগ্রস্থ রোগীদের ক্ষতিপুরুন স্বরুপ কিছু অর্থ বিনিময়ে আপোষ মিমাংসা করা হয়। বার বার পার পেয়ে যায় যত্রতত্র গড়ে উঠা এসব ক্লিনিকের দায়িত্বরত ডাক্তার ও মালিক পক্ষ । অব্যহত থাকে তাদের এ কার্যক্রম।ভুল চিকিৎসায় এসব রোগী নিহত হওয়ার ঘটনায় অর্থে বিনিময় ও ময়না তদন্তের মরদেহ কাটা ফারার দেখিয়ে ক্লিনিক মালিক পক্ষ ও প্রভাবশালীরাসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় পরিবারের সম্মতিতে।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা সদরের পলাশবাড়ী – ঘোড়াঘাট সড়কের সরকারি গোরস্থান সামনে সরকারি হাসপাতালের নার্স ফাতেমা কর্তৃক পরিচালিত মা- ক্লিনিক এন্ড নাসিং হোমে গত ১০ আগষ্ট শুক্রবার বিকালে উপজেলার সদরের সুইগ্রামের মৃত কছের সরকারের স্ত্রী রুবি বেগম (৬০) এর পাকস্থলীতে পাথর অপসারনে ভূয়া ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করা হয়।এতে রোগীর অবস্থা বেগতিক হলে আশংঙ্কাজনক অবস্থায় রোগীকে রংপুর হাসপাতালে ভর্তি করে মা ক্লিনিক এন্ড নাসিং হোমের ছায়া মালিক নার্স ফাতেমা (রোগী নিকট যিনি ডাক্তার)।এতে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের ফলে আজ ১৫ আগষ্ট বুধবার সকালে রোগীটি মারা যায়।নিহত রোগীর ছেলে মেয়েরা জানায় ,রোগীর দ্বিতীয় অপারেশন এটি। একজন বৃদ্ধা রোগীকে দ্বিতীয়বার অপারেশন করার মতো কোন ব্যবস্থা এ ক্লিনিকটিতে না থাকা স্বতেও নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ভুয়া ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করে রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় ডাক্তার আর সেবিকা নামক কসাই নার্স ফাতেমা বেগম। রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে রোগীকে আধা মরা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ রংপুরে রেফার্ড করে। সেখানে শেষ সময়ে উপস্থিত হলে রোগীর মৃত্যু হয়।
সরেজমিনে অত্র ক্লিনিকে গেলে দেখা যায় ৮ জনের অধিক সিজারের রোগী বাচ্চা প্রসাব করানো হয়েছে । তাদের মধ্যে আছমা ও শান্তনা অভিভাবক জানান ডাক্তার ফাতেমার সহিত আলাপ আলোচনা করে রোগী ভর্তি করা হয়েছে। ভুয়া ডাক্তার দ্বারা অপারেশন করার বিষয়ে উক্ত ক্লিনিকের ছায়া মালিক (ভুয়া ডাক্তার ) নার্স ফাতেমার সহিত কথা বলতে গেলে তাকে হাসপাতাল বা ক্লিনিকের উপরের বাসায় কোথাও পাওয়া যায়নি। ক্লিনিকের ম্যানেজার সাদেকুল নার্স ফাতেমা বেগমকে ডাকার কথা বলে পালিয়ে যায়। তবে মোবাইলে এক্লিনিকের কাগজ কলমের ব্যবস্থাপক এনামুল কবির হায়দার জানান, একজন বৈধ ডাক্তার দ্বারা রোগীকে অপারেশন করা হয়।ডাক্তারের নাম পিকে শাহি যিনি এমবিবিএস ও জেনারেল সার্জন এ ডাক্তার সাহেব গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত আছেন। তিনি আরো বলেন নিহত রোগীর স¦জনদের থানায় অভিযোগ দিতে বলেন।
এবিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন শুকুর আলী জানান ,অত্র ক্লিনিকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অত্র ক্লিনিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।
উল্লেখ্য, প্রায়ই ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায় উক্ত ক্লিনিকসহ উপজেলার যত্রতত্র ক্লিনিক গুলোতে । উক্ত ক্লিনিকের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় নিহত রোগীর বাড়ীতে গিলে তারা বিষয়টির সঠিক তদন্ত সাপেক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃর্ষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরাসহ উপজেলার সচেতন জনতা