
বাংলাদেশে বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) খাতে সুশাসন নিশ্চিতের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ‘বৈদেশিক অনুদান রেগুলেশন আইন, ২০১৬’ এর ‘বৈষম্যমূলক ও অস্পষ্ট’ ধারাসমূহ সংস্কার এবং বিধিমালা চুড়ান্ত করার সুপারিশ করেছে টিআইবি।
দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) তাদের পরিচালিত ‘বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও খাত : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই সুপারিশ করেছে।
টিআইবি আজ দুপুরে সংস্থাটির ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারের মেঘমালা কনফারেন্স রুমে প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এসময় টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণা ও প্রতিবেদন প্রণয়ন করেন টিআইবির রিচার্স অ্যান্ড পলিসির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজারএ এস এম জুয়েল, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নিহার রঞ্জন রায় ও মো. মোস্তফা কামাল এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা।
গবেষণাটি ৪৮টি এনজিও থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় ১৫টি, জাতীয় ২৪টি ও আন্তর্জাতিক এনজিও রয়েছে।
টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছে, গত এক দশকে বাংলাদেশে বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংগঠন (এনজিও) খাতে সুশাসনের অগ্রগতি হয়েছে। গবেষনার আওতাভূক্ত এনজিওসমূহে সুশাসনের বেশ কিছু ইতিবাচক চর্চা অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, বিশেষ করে প্রয়োজনীয় নীতিমালা বা নির্দেশিকা এবং অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতা ও নিয়ন্ত্রণের কিছু ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে এ ধরণের চর্চা উল্লেখ করা যায়।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এনজিওর নীতিমালা ও ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর উন্নয়ন ঘটানোর সুযোগ রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিশেষ করে পরিচালনা পর্ষদ ও এনজিও ব্যবস্থাপনার মধ্যে জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক জোরদার করা, অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিতকরণ এবং নিয়োগ, ক্রয়,বেতন-ভাতা প্রদান ইত্যাদির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- বৈদেশিক অর্থায়নে পরিচালিত এনজিও খাতে প্রকল্প কর্মসূচি প্রণয়ন ও পরিবীক্ষণে বিশেষ করে সেবামূলক প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ ও উপকারভোগীদের সম্পৃক্ত করা। একক কর্তৃত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিহার- কর্মীদের মতামত গ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রতিফলন এবং পরিচালনা পর্ষদ ও নির্বাহি ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখারও সুপারিশ করা হয়।
টিআইবি তাদের গবেষনা প্রতিবেদনে সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রতি সুপারিশ করেছে যে, প্রশিক্ষণ প্রদান, কার্যালয় পরিদর্শনের নামে এবং নিবন্ধন ও প্রকল্প অনুমোদনের সময় নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ আদায় ও হয়রানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এসব ঘটনায় জড়িত এনজিও ব্যুরোর কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।সুত্র-বাসস