
দক্ষিণ সুদানের আইনসভা রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২১ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির গৃহযুদ্ধের ব্যাপারে সপ্তাহজুড়ে চলমান শান্তি আলোচনা ভেঙ্গে পড়েছে। কারণ সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাখারের সমর্থনকারী দলটি তাকে পুনর্বহালের জন্য যে চুক্তি করেছে তা প্রত্যাখান করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভুল বোঝাবুঝি এবং দুর্বল প্রভাবের কারণে ঐক্যমতে পৌছানোর প্রক্রিয়া ফের বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দুই সপ্তাহ পূর্বে হওয়া ঐক্যমতের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভেঙ্গে পড়ে। ডয়েচে ভেলের বরাতে জানা যাচ্ছে, আলোচানা চলমান থাকা অবস্থায় ৪ জুলাই ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ নিয়ে চুক্তির ব্যাপারে সন্দেহ নিয়েই নেতারা আলোচনা ত্যাগ করেন।
মনে হচ্ছে বিদ্রোহীরা আলোচনা থেকে আরো বেশি কিছু আশা করতেছে, যেমন প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় যা রাষ্ট্রপতি সালভা কীরের ক্ষমতার ভিত্তিকে পরীক্ষা করে দেখবে।
এদিকে ১১ জুলাই দক্ষিণ সুদানের আইনসভা কীরের রাষ্ট্রপতিত্বের মেয়াদ আরো ৩ বছর বাড়ানোর জন্য ভোট দেয়, ফলে তিনি ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। এই বর্ধিতকরণ ভাইস প্রেসিডেন্ট, রাষ্ট্রীয় আইন প্রণেতাগণ এবং গভর্ণরদের জন্যও প্রযোজ্য হবে। সমালোচকগণ বিশ্বাস করেন যে, এটা ইতিমধ্যেই ভঙ্গুর শান্তি আলোচনাকে আরো নিচের দিকে ঠেলে দেবে। তবে আইনসভার তথ্য কমিটির চেয়ারম্যান পল ইউআনি বোনজু বলেন, এই আইন আলোচনার ভিত্তিতে ‘সরকারকে আরো শক্তিশালী করবে।’
১০ জুলাই জাতিসংঘ ঘোষণা দেয় যে, এই বছরের এপ্রিল এবং মে মাসে সরকার কর্তৃক আক্রমনে ২৩১ জন বেসামরিক জনসাধারণ হত্যা এবং গণহারে ধর্ষন যুদ্ধ অপরাধের সামিল হতে পারে। শুক্রবারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কমিটি দেশটির উপর একটি অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ২০১৩ সাল থেকে চলমান গৃহ যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকে তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছ।
প্রসঙ্গত, সুদান থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার দুই বছরের মাথায় ২০১৩ সালের শেষ দিকে গৃহযুদ্ধের আবর্তে জড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ সুদান। এতে দেশটির এক কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। দিনকা গোষ্ঠীর সদস্য প্রেসিডেন্ট কির ও তার সাবেক ডেপুটি নুয়ের গোষ্ঠীর সদস্য রিয়েক মাখারের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।