
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানে ক্রিকেটের ময়দান থেকে রাজনীতিতে আসা পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রধান ইমরান খানই দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বুধবার অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ২৭২ টি আসনের মধ্যে ১১৩টিতে পিটিআই, ৬৪টিতে নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ -এন (পিএমএল-এন) এবং ৪৩টিতে বিলওয়াল ভুট্টোর পিপলস পার্টিও (পিপিপি)এগিয়ে রয়েছে।
গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন।
পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের দাবি ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। তবে বুধবার দুপুরে কোয়েটার একটি ভোটেকেন্দ্রের বাইরে বোমা হামলায় ৩১জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, পুরো ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল। প্রধান কেন্দ্রগুলোয় দায়িত্বে ছিলেন ১২০ জন পর্যবেক্ষক।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান মাইকেল গ্যালার বলেন, ‘তারা পরিচয় পত্র পরীক্ষা করছে কি না, একই ব্যক্তি বার বার আসছে কি না এসবই দেখছি আমরা। আসলে নিয়মের বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।’
স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ভোট গ্রহণ শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টায়। ভোট কেন্দ্রগুলোয় ভোটার উপস্থিতি বিশেষ করে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৬০ লাখ। ৮৫ হাজার ৩০৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন দেশটির মানুষ। কেন্দ্রে ভোটারদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ২৫ জুলাই সরকারি ছুটি ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার।
সকাল থেকে নিজ নিজ কেন্দ্রে একে একে ভোট দেন শীর্ষ প্রার্থীরা। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত প্রার্থী তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান দাবি করেন, এই নির্বাচন সবচেয়ে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ইমরান খান বলেন, ‘এটিকে সবচেয়ে নির্বিঘ্ন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন বলা যায়। আগের বার সব দলই পাতানো ভোটের অভিযোগ করেছিল। একমাত্র আমিই তদন্তের দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু তখন সবাই আমার বিরোধিতা করে।’
স্থানীয় সময় বুধবার রাত ২টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা) থেকে ভোটের ফল ঘোষণা করা হতে থাকে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন।
তবে আগে থেকেই বিশ্লেষকরা বলছিলেন, নির্বাচনে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে কারাগারে আটক নওয়াজ শরীফের দল মুসলিম লীগ (এন) ও সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মধ্যে।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে ২৭২টি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ৩৪২ সদস্যের পার্লামেন্টে ৭০ টি আসন হচ্ছে সংরক্ষিত। সংবিধান অনুযায়ী, ২৭২টি আসনের মধ্যে কোনো দল ১৩৭টি আসন পেলেই সরকার গঠনে সমর্থ হবে।