
বড়পুকুরিয়া খনি প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিবুদ্দিন আহমেদসহ চারজনের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে দুদক চিঠি দিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা।
কয়লার অভাবে বন্ধ হতে চলেছে দেশের উত্তরাঞ্চলের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। তিনটি ইউনিটে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লার অভাবে ইতিমধ্যে দুটি ইউনিট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর একটি ইউনিট থেকে ২৭৫ মেগাওয়াটের স্থলে উৎপন্ন হচ্ছে মাত্র ১৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কয়লার অভাবে এটিও যে কোনো মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কয়লাখনি সূত্রে জানা যায়, খনির কোল ইয়ার্ডে বর্তমানে দেড় লাখ টন কয়লা মজুদ থাকার কথা। কিন্তু শনিবার খনির কোল ইয়ার্ডে দেখা যায় কয়লা মজুদ রয়েছে মাত্র ৪-৫ হাজার টন কয়লা। বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লার কোনো হদিস নেই। কয়লার অভাবে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হওয়ায় পেট্রোবাংলা ও খনি কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে।
সংকটের বিষয়টি শনিবার স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও। তিনি বলেছেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের ‘শিফট পরিবর্তন’ হওয়ার কারণে আগামী কয়েক মাস উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হতে পারে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) মিলনায়তনে শনিবার বাপবিবোর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মহাব্যবস্থাপক সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এঘটনায় ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় পেট্রোবাংলা এক অফিস আদেশে খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) নুরুজ্জামান চৌধুরী ও উপমহাব্যবস্থাপক (স্টোর) খালেদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এছাড়া ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমদকে অপসারণ করে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দফতরে সংযুক্ত করা হয়। মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও কোম্পানি সচিব) আবুল কাশেম প্রধানিয়াকে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড সিরাজগঞ্জে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়। বড়পুকুরিয়া খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (অতিরিক্ত দায়িত্ব) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পেট্রোবাংলার পরিচালক আইয়ুব খানকে।