
দুর্নীতির মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। এ ছাড়া নওয়াজের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ শরিফকে সাত বছরের এবং মেয়ের স্বামী সাফদার আওয়ানকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ মাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, লন্ডনে চারটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নিয়ে দুর্নীতির দায়ে নওয়াজ শরিফের ওই কারাদণ্ড হয়। আজ শুক্রবার পাকিস্তানের দুর্নীতি দমন সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদালত ওই রায় ঘোষণা করেন। দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের প্রচার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় আদালতের এই রায় এল।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, নওয়াজ শরিফকে আট মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মরিয়মকে জরিমানা করা হয়েছে দুই মিলিয়ন পাউন্ড।
মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সেখানে তাঁর স্ত্রী কুলসুম নওয়াজ চিকিৎসাধীন। কুলসুম ক্যানসারে আক্রান্ত।
বাবার দুর্নীতিতে সাহায্য ও তদন্তে সহযোগিতা না করায় মরিয়মের ওই কারাদণ্ড হয়। অন্যদিকে তদন্তে সহযোগিতা না করায় এক বছরের কারাদণ্ড হয় তাঁর স্বামী সাফদার আওয়ানকে।
নওয়াজ শরিফ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, রায়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নওয়াজ শরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, লন্ডনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটগুলো বৈধ পথেই কেনা হয়েছে। তবে দেশটির দুর্নীতি দমন ব্যুরোর অভিযোগ ওই বিষয়ে যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে নওয়াজের পরিবার।
নওয়াজ শরিফ তিনবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে প্রথম তিনি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। সর্বশেষ ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তবে কোনো সময়ই তিনি পূর্ণমেয়াদ শেষ করতে পারেননি। পাকিস্তান মুসলিম লীগের (এন) শীর্ষ পদেও নেই তিনি এখন। তবে তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে মরিয়ম শরিফকেই ভাবা হয়।