
দিনদিন তাবলিগ-জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। দেশব্যাপী একপক্ষ আরেক পক্ষকে প্রতিহত করতে গিয়ে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়ছে। আর এই দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসছেন হেফাজতে ইসলামের আমির আহমদ শফী।
তিনি কওমি আলেম ও তাবলিগের মুরব্বিদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন। তাবলিগ ও হেফাজত সংশ্লিষ্টসূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, তাবলিগ-জামাতের সংকট নিরসনে পাঁচজন কওমি আলেমকে পরামর্শক ও উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয় ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর। এর আগে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বাসায় কওমি আলেমরা তাবলিগের সংকট নিরসনে আলোচনা করেন। সেই অনুযায়ী আলেমদের এ কমিটি করা হয়।
জানা গেছে, তাবলিগ-জামাতের চলমান সংকট নিরসনের জন্য রাজধানীর মোহম্মদপুর ঈদগাহ ময়দানে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন হেফাজত আমির আহমদ শফী। সেখানে দেশের কওমিপস্থী আলেম ও তাবলিগের শীর্ষ মুরব্বিরা অংশ নেবেন। সবার অভিমতের ভিত্তিতেই সংকট নিরসনের জন্য দিক নির্দেশনা দেবেন আহমদ শফী।
এ প্রসঙ্গে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক বলেন, ‘তাবলিগ জামাতের সংকটটি দীর্ঘদিনের। সেটি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলেমরা সহায়তার চেষ্টা করেছেন। সংকট নিরসনে ২৮ জুলাই একটি সভা হবে, সেখানে আহমদ শফী আসবেন । সেখানে তিনি সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন।’
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব-প্রতিপত্তি ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে এই অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। এরসঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাবলিগের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে কেন্দ্র করে মতবিরোধ।
সাদবিরোধীদের পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন হেফাজতসহ কওমি আলেমরা। আর এসব দ্বন্দ্বে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে হাতাহাতি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল কাকরাইলে সাদপন্থী ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাবলিগের দুই গ্রুপের ছয় মুরব্বির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পুলিশ। তবে শুরুতে এ বিরোধ কাকরাইল মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাদপন্থী ও সাদবিরোধীদের একপক্ষ অন্যপক্ষের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে। কোনও কোনও এলকায় একপক্ষ অন্যপক্ষকে মসজিদে প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে।
এরই রেশ ধরে গত ১৯ জুন নাটোরের মারকাজ মসজিদে আসরের নামাজের পর তাবলিগ-জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দুইপক্ষ থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। মাওলানা সাদ কান্ধলভীবিরোধী পক্ষের মুফতি শফী কাসেমী নাটরের সদর থানায় সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেছেন, ‘নাটোরের তেবাড়িয়া মারকাজ মসজিদে তাবলিগের পরামর্শ বৈঠকে যোগ দেন মুফতি শফী কাসেমী। সেখানে মো. শরিয়ত উল্লাহ শেখসহ ১০ /১২ জন তাদের ওপর হামলা চালান। হামলায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানেও হামলা করা হয়।’
এ প্রসঙ্গে মুফতি শফী কাসেমী বলেন, ‘এ ধরনের সংঘর্ষ আগে কোনোদিন হয়নি, এবারই প্রথম। নানাভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সমাধান না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
সূত্র জানায়, কাকরাইল মারকাজে শুরা সদস্য রয়েছেন ১১ জন। এরমধ্যে দিল্লির নেজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সা’দ কান্ধলভির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মাওলানা মোজাম্মেল হক, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, খান সাহাবুদ্দিন নাসিম, মাওলানা মোশাররফ, ইউনুস শিকদার, শেখ নুর মোহাম্মদ। অন্যদিকে, মাওলানা সা’দ কান্ধলভির বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন মাওলানা যোবায়ের, মাওলানা রবিউল হক, মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা ওমর ফারুক। তবে এই দু’পক্ষের বিরোধের মধ্যে নেই মাওলানা মোহাম্মদ ফারুক।
সাদ বিরোধীদের অংশের তাবলিগকর্মী ড. আজগর বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সংকট নিরসনে আমরা আহ্বান জানালেও তারা সাড়া দিচ্ছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানের মসজিদে আমাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।’
সংকটের জন্য সাদপন্থীরা বিরোধীদের দুষছেন। সাদপন্থী অংশের তাবলিগকর্মী আব্দুল্লাহ মনছুর বলেন, ‘অহেতুক সংকট বাড়ানো হচ্ছে। হেফাজতও এতে যুক্ত হয়েছে। সমাধানের জন্য সরকারের সহায়তা প্রয়োজন।’সূত্র-আরটিএনএন