
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশই বাড়ছে এবং দুটো দেশের প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হুমকির পর এই উত্তেজনা আরো তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানিকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেয় তাহলে ইরানকে ‘এমন পরিণতি ভোগ করতে হবে যে পরিণতি ইতিহাসে অল্প কিছু দেশই এর আগে ভোগ করেছে।’ খবর বিবিসি’র
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির আগে প্রেসিডেন্ট রোহানি বলেছিলেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ হলে সেটা হবে এমন এক যুদ্ধ যা পৃথিবীতে এর আগে কখনো হয়নি।’
ওই চুক্তিতে ধীরে ধীরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পরিহার করার বদলে দেশটির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। এখন চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ওয়াশিংটন ইরানের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে।
কিন্তু ২০১৫ সালে আরো যেসব পক্ষ ওই চুক্তিতে সই করেছিল তারা ইরানের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছে। এই দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং রাশিয়া।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট বার্তায় প্রেসিডেন্ট রোহানিকে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, ‘আপনি আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দেবেন না। যদি দেন তাহলে আপনাকে এমন পরিণতি দেখতে হবে যা ইতিহাসে এর আগে খুব কমই হয়েছে।’
‘যুক্তরাষ্ট্র এখন আর এমন কোন দেশ নয় যা সহিংসতা ও মৃত্যুর ব্যাপারে আপনার উন্মত্ত কথা শুনবে। আপনি সাবধান হয়ে যান,’ বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এর আগে ইরানি প্রেসিডেন্টের করা এক মন্তব্যের পরেই মি. ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট রোহানি ইরানি কূটনীতিকদেরকে বলেছেন, ‘আমেরিকার জানা উচিত যে ইরানের সাথে শান্তিই হলো আসল শান্তি। আর ইরানের সাথে যুদ্ধের মানে হলো এক ব্যাপক যুদ্ধ।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে টুইটারে এধরনের ক্রুদ্ধ বার্তা দিয়েছিলেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের উদ্দেশ্যে, যাকে তিনি উল্লেখ করেছিলেন একজন ‘উন্মাদ’ হিসেবে। তাকে উদ্দেশ্যে করেও তিনি বলেছিলেন, ‘এমন পরিণতি হবে যা এর আগে কারো হয়নি।’ পরমাণু হামলা চালানোর জন্যে কার দেশের ‘সুইচ’ কতো বড়ো সেটা নিয়েও তারা বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
কিন্তু তাদের সেই ঝগড়া বেশি দূর এগোয়নি। পাল্টাপাল্টি সেই হুমকি শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে তৃতীয় একটি দেশে তাদের মধ্যে বৈঠক এবং কূটনৈতিক সমঝোতার প্রক্রিয়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ইরান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘ইরান সরকার যতোটা না সরকার তারচেয়ে বেশি মাফিয়া।’
ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি আমেরিকানদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার সময় তিনি প্রেসিডেন্ট রোহানি এবং ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, ইরানের উপর চাপ বাড়ানোর জন্যে তিনি তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
পম্পেও বলেন, কেউ যাতে ইরানের কাছ থেকে তেল না কেনে সেজন্যে তিনি বিভিন্ন দেশকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে ইরান থেকে তেল আমদানী বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, এতো ব্যাপক সংখ্যক ইরানি আমেরিকানদের সমাবেশের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এতো উচ্চ পর্যায়ের কোন নেতা এর আগে এরকম সরাসরি মন্তব্য করেনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর এধরনের বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে ইরানি নেতৃত্বের উপর চাপ তৈরির জন্যে ট্রাম্প প্রশাসন কতোটা মরিয়া হয়ে উঠেছে।