শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
সৌদির সাথে মিল রেখে পলাশবাড়ীতে ঈদ উদযাপন ব্রহ্মপুত্রে ধরা পড়ল ৯০ কেজির বাঘাইর: ১ লাখে বিক্রি, মাছ কিনতে ক্রেতাদের ভিড় লালমনিরহাটে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শতাধিক পরিবারের ঈদ উদযাপন তারাগঞ্জে মঞ্জুরুল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ১,বেরিয়ে আসছে পরিকল্পিত খুনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পলাশবাড়ীতে বাসচাপায় অজ্ঞাত নারী নিহত গাইবান্ধায় খালের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু গোবিন্দগঞ্জে গৃহবধূকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল যুবক গ্রেফতার লালমনিরহাটে ঈদ উপলক্ষে ‘রোজ’ এনজিওর খাদ্য সহায়তা বিতরণ বিশ্বকাপ নয়, আমরা যুক্তরাষ্ট্র বয়কট করব : ইরান ফুটবল প্রধান লালমনিরহাটে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬ মোবাইল ও ২৪ সিম

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরল বৈঠক

  • আপডেট হয়েছে : শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রাখাইন রাজ্যে চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে মায়ানমার সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে বিরল এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট উইন মিয়ান্টের কার্যালয়ের তরফ থেকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার রাজধানী নেপিদোতে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দেশটির ডি ফ্যাক্টো সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চি ও সেনাপ্রধান মিং অং হ্লাংসহ উভয়পক্ষের ১৫ জন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট উইন মিয়ান্টের কার্যালয়ের তরফ থেকে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তাসহ রোহিঙ্গা সংকটের অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৬ সালে সু চির নেতৃত্বাধীন সরকার এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই ধরনের বৈঠক করলো। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘের সঙ্গে মায়ানমারের চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

গত বছরের আগস্টে রাখাইনে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মায়ানমার সেনাবাহিনী। খুন, ধর্ষণ আর অগ্নিসংযোগের মুখে প্রতিবেশি বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র এই সেনা অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে বর্ণনা করেছে।

পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে এই সপ্তাহে জাতিসংঘ ও মায়ানমারের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের আগের কয়েক মাসে চলে টানাপোড়েন। প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার প্রস্তুত থাকার কথা বলে আসলেও বহিরাগত কাউকে সেখানকার পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ দিতে অস্বীকার করে আসছিল।

আগামী ২০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) রাখাইনে সেনা অভিযানের বিষয়ে তদন্ত শুরুর বিষয়ে শুনানির কথা রয়েছে। জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ অস্বীকার করে আসা মায়ানমার বলছে, সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়ায় আইসিসি‘র এই অভিযান তদন্তের অধিকার নেই। এর পরিবর্তে তারা নিজেদের গঠিত একটি স্বাধীন কমিশন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করে দেখবে। তবে আইসিসিতে করা আবেদনে বলা হয়েছে, সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গোদের ওপর সংঘটিত অপরাধে তদন্তের অধিকার আদালতের রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসামরিক সরকার এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে এধরনের উচচ পর্যায়ের বৈঠক তাদের ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি বিষয়ে মতপার্থক্য নিরসনে ভূমিকা রাখবে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে গত নভেম্বরে মায়ানমারের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের তরফ থেকে আট হাজার শরণার্থীর তালিকা দেওয়া হলেও মায়ানমার এক হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়। তবে এখনও কেউ ফেরত যায়নি। রোহিঙ্গারা মায়ানমারের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, নাগরিকত্ব, নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া গ্রামের ক্ষতিপূরণ এবং কৃষিভূমিতে অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করছে। প্রত্যাবাসন দেরি হওয়ায় বাংলাদেশ এবং মায়ানমার পরস্পরকে দায়ী করছে।

মায়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের নতুন বিশেষ দূত সুইজারল্যান্ডের নাগরিক ক্রিস্টিন শ্রানার বার্গেনার রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য খুব দ্রুত দেশটি সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft