
তুর্কি জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অস্ট্রিয়ার সরকার দেশটির সাতটি মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি ৬০ জন ইমামকে দেশটি থেকে বের করে দেয়ার বিষয় খতিয়ে দেখছে বলেও জানিয়েছে।
তুর্কি সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও কথিত রাজনৈতিক ইসলাম এবং বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানের নামে এ সব পদক্ষেপ নেয়ার দাবি করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাটিয়ান কুর্টস দাবি করেছেন, দেশটিতে রাজনৈতিক ইসলামের কোনো স্থান নেই।
দেশটিতে যে সাত মসজিদ বন্ধ করে দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তার মধ্যে তিনটিই রয়েছে ভিয়েনায়। এ সব মসজিদের কোনো কোনোটির ওপর তুরস্কের ডানপন্থী সংস্থা তথাকথিত ‘গ্রে উলফের’
প্রভাব রয়েছে থাকার অজুহাত দিচ্ছে ভিয়েনা সরকার।

অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাটিয়ান কুর্টস
অস্ট্রিয়ার তুর্কি ইসলামিক ইউনিয়ন বা এটিআইবি নিয়োগপ্রাপ্ত ৬০ ইমামের রেসিডেন্স পারমিটও পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হের্বাট কিকেল।
এর আগে দেশটিতে কথিত ‘সমান্তরাল সমাজ’ গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অজুহাতে তুলে শিশু এবং প্রাথমিক শ্রেণির ছাত্রীদের মাথায় কাপড় দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে অস্ট্রিয়া সরকার।
এদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন টুইটারে এর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, অস্ট্রিয়ার উদ্যোগে ইসলাম-বিদ্বেষ, বৈষম্য এবং বর্ণবাদের প্রতিফলন ঘটেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, অস্ট্রিয়ার সরকার মুসলিম জনগোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চাইছে।
অস্ট্রিয়ায় বর্তমান যে কট্টর দক্ষিণপন্থী জোট সরকার ক্ষমতায়, তারা নির্বাচনে জিতেছিল অভিবাসন এবং রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলে।
প্রায় ৯০ লাখ মানুষের দেশ অস্ট্রিয়ায় মুসলিমের সংখ্যা ছয় লাখ। এদের বেশিরভাগই তুরস্ক থেকে আসা অভিবাসী বা তুর্কীদের বংশধর।
অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জ যখন এর আগে যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন অনেক ইসলাম-বিরোধী আইন করেছিলেন।
এবার তিনি আরও একধাপ এগিয়ে সাতটি মসজিদ এবং প্রায় চল্লিশ জনের মতো ইমামকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিলেন। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি