1. arifcom24@gmail.com : Arif Uddin : Arif Uddin
  2. admin@khoborbari24.com : arifulweb :
  3. editor@khoborbari24.com : editor : Musfiqur Rahman
  4. hostinger@khoborbari24.com : Hostinger Transfer : Hostinger Transfer
  5. khoborbari@khoborbari24.com : Khoborbari : Khoborbari
  6. khobor@gmail.com : :
কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিমের কষ্টের চিত্র প্রদর্শনী - খবরবাড়ি24.com
বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন
৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩০শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি
শিরোনামঃ
তারাগঞ্জে সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের আর্থিক অনুদান বিতরণ গাইবান্ধায় ১ টাকায় নিত্যপণ্য পেল ২’শ ৫০ পরিবার পলাশবাড়ীতে ‘স্বপ্ন’ সুপার শপের আউটলেটের শুভ উদ্বোধন গাইবান্ধায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলের আব্দুল করিম এমপি লালমনিরহাটে বড়ুয়া খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন ত্রান মন্ত্রী দুলু পলাশবাড়ীর পার্বতীপুরে দুস্থ-অসহায়দের মাঝে নগদ অর্থ-ছাগল ও সেলাই মেশিন বিতরণ গোবিন্দগঞ্জে খাল খননের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি পলাশবাড়ীতে এমপির বরাদ্দে ৬৭০ অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ পলাশবাড়ীতে দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড ভুট্টাক্ষেত, কৃষি কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশাধিকার সীমিত ব্রাজিলে

কাশ্মীরে হিন্দু-মুসলিমের কষ্টের চিত্র প্রদর্শনী

  • আপডেট হয়েছে : রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮
  • ৪২ বার পড়া হয়েছে

নিরাপদে বসবাসের লক্ষ্যে প্রিয় বাসভূমি ছেড়েছেন কাশ্মীরের অনেক হিন্দু-মুসলিম। উভয় সম্প্রদায়ের এমন বহু কষ্টের স্মৃতি নিয়ে এবার আয়োজন করা হয়েছে একটি ভীন্নধর্মী চিত্র প্রদর্শনী।

রাজ্যটির রাজধানী শ্রী নগরে একটি শতবর্ষী পুরোনো সিল্ক কারখানার দালানে হচ্ছে সাতদিনের এই প্রদর্শনীটি।

প্রদর্শনীটি এমন একটি সময়ে চলছে যখন ভারতের শাসকদল বিজেপি এবং আঞ্চলিক পিডিপি’র ক্ষমতাসীন জোট সরকারের পতনে অঞ্চলটিতে চলছে একটি রাজনৈতিক সংকট। কিন্তু এমন সময়েও প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করছেন শতাধিক দর্শনার্থী।

সহিংসতা, আন্দোলন, হামলা, পাল্টা হামলা নিয়ে চলছে কাশ্মীরের মানুষের জীবন। কাশ্মীর সৃষ্টির পর থেকে অশান্ত কাশ্মীরে সহিংসতা থামেনি। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চললেও এর বিরোধটা মুলত ধর্ম তথা পাকিস্তান-ভারতের রাষ্ট্রীয় বিরোধ।

অনেক মুসলমান কাশ্মীর ছেড়ে সীমান্তবর্তী পাকিস্তানে বাস করছেন। আবার অনেক হিন্দু বাস করছেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। তারা সবাই দেশ ছেড়েছেন অনিচ্ছা স্বত্তেই বেচে থাকার তাগিদে। এমনই একজনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে এই প্রদর্শনী। প্রধান উদ্যোক্তা পেইন্টার অবতার কৃষাণ রায়না। ১৯৯০ সালে ছেড়ে যাবার পর নিজের জন্মস্থানে প্রথমবারের মতো ফিরেছেন এক ভিন্ন ধরনের শিল্প প্রদর্শনীতে। যে প্রদর্শনী হিন্দু এবং মুসলিম শিল্পী ও ভাস্করদের এনে মিলিয়েছে এক জায়গায়।

তিনি জানান, সেসময় একদিন বাসায় এসে দেখতে পান যে বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিরা তার বাসায় একটি পোস্টার সেঁটে দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, সে যেন তার কুকুরটিকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলে যাতে করে তারা আশেপাশে আসলে সেটি ডাকাডাকি করতে না পারে।

মি. রায়না বুঝতে পেরেছিলেন যে সেই ভয়াবহ মাসটিতেই তাদের হত্যা করা হবে- যেখানে অধিকাংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীরাই জন্মভূমি ছেড়ে চলে গেছে। এখন তিনি মধ্যপ্রদেশে একজন পেইন্টার হিসেবে কাজ করছেন।

কৃষাণ রায়না বলছিলেন, আমি চলে যাবার সময় কিছুই সাথে করে নিয়ে যাইনি। আর এখানে ফিরে আসার কোনো ইচ্ছাই আমার আর কখনো ছিল না। কিন্তু তিনি যখন প্রদর্শনীটিতে আসলেন তখন পুরনো একজন বন্ধু তাকে সাদরে স্বাগত জানান, বন্ধুটির নাম মোহাম্মদ আশরাফ।

মি. আশরাফ একজন সাবেক আমলা, একটি পেইন্টিং সাথে করে এনেছেন প্রদর্শনীতে। সেটি দেখিয়ে তিনি বলেন যে, এই ছবিটিই একমাত্র বস্তু যা তিনি ২০১৪ সালের বন্যার সময় রক্ষা করতে পেরেছিলেন।
কাশ্মীরি আর্ট প্রোমোটার মুজতবা রিজভী বলেন, শিল্প হলো কঠিন কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা আর কথোপকথন। অনেক বাধা এবং ভুল ধারণা আজ সরে গেছে। আসলে শিল্প হলো সামাজিক মধ্যবর্তিতার এক মাধ্যম।

একজন কাশ্মীরি হিন্দু শিল্প বোদ্ধা এবং ইতিহাসবিদ রতন পারিমু বলছিলেন, একমাত্র শিল্পেরই সেই শক্তি আছে যা দিয়ে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংযোগ ঘটাতে পারে।

অস্থায়ী গ্যালারিটি পূর্ণ হয়েছে বহু শিল্পকর্মে যার বেশিরভাগই প্রকাশ করছে অঞ্চলটি ঘিরে ঘটে চলা দ্বন্দ্বের গভীরতাকে। শিল্পী চুষল মাহলাদার একটি আত্মপ্রতিকৃতি সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। যার শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘কষ্টের হাসি’। আর ছবিটিতে দেখা যায় একজন কাশ্মীরি হিন্দু পুরুষের অনাবৃত দেহকে আষ্টেপৃষ্ঠে ঘিরে রেখেছে কাঁটাতার। তার মাঝেও মাথা উঁচু করে মানুষটির মুখে রয়েছে স্মিত হাসি।

শিল্পী তার ছবিটির বর্ণনায় বলেছেন, ‘এটিই একজন সাধারণ কাশ্মীর-বাসীর জীবনের বহি:প্রকাশ, তা সে হিন্দু বা মুসলিম যেই হোন না কেন’।

সেখানে কিছু ঘূর্ণায়মান যন্ত্র দিয়ে একটি ইন্সটলেশন তৈরি করা হয়েছে যা ভীর মুনসীর ভাষায় সংঘাতের মধ্যকার মানুষের কষ্টকে ফুটিয়ে তুলেছে। মি. মুনশিও একজন জন্মস্থান-ত্যাগী হিন্দু।
প্রদর্শনী স্থলের ঠিক মাঝামাঝি রাখা হয়েছে একটি দৃশ্য-কল্প। যে ইন্সটলেশনে দেখা যায় একটি নৌকাকে উল্টো করে রাখা।

একদম ঢোকার মুখে রয়েছে ৩০ফুট দীর্ঘ একটি চিত্রকর্ম। শিল্পী মামুন আহমাদ একজন কাশ্মীরি মুসলিম। ইঙ্ক ড্রয়িং-এ তিনি এঁকেছেন এমন একটি অরণ্যের ছবি যেখানে বৃক্ষ আর অস্থি পাশাপাশি অবস্থান- যেমনটি মনে করিয়ে দেয় মৃত্যুর মধ্যে থাকা জীবনের।

‘রুভেদা’ একটি উর্দু শব্দ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই দীর্ঘ পেইন্টিংটি আঁকা হয়েছে, যার অর্থ ‘ধীরে হেঁটে যাওয়া’। শিল্পী কাশ্মীরে চলমান হিন্দু মুসলিম সংঘাতের গল্প বলার মধ্যদিয়েই জানালেন যে, এর মাঝ দিয়েই ধীরে হেঁটে গিয়ে দুইটি সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য ঘুচিয়ে দেবো।

স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী সাইবার খান বললেন, ‘এটি হৃদয়কে নাড়া দেয়, কিন্তু সেইসাথে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার জন্ম হয়।

মি. খান যেমন জানালেন তিনি কখনোই একজন হিন্দু পণ্ডিতকে দেখেননি তার সম্প্রদায়ের বাইরে এসে এভাবে একা কাজ করছেন। তার মতে, এইসব শিল্পীদের কাজ, তাদের পেইন্টিং, ইন্সটলেশন- সবমিলিয়েই প্রদর্শনীটি পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এরকম আরও খবর
© All rights reserved © 2025

কারিগরি সহযোগিতায় Pigeon Soft