
কেবলমাত্র প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অনুমোদনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা প্রদানের পক্ষে ভোট দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট।
কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য আগে পুরো মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেয়ার প্রয়োজন হতো।
সোমবার ওই আইনের সংশোধন করে এই কর্তৃত্ব প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রতিরক্ষা প্রধান আভিগদর লিবারম্যানকে স্থানান্তর করা হয়।
নেতানিয়াহু এবং লিবারম্যানকে ‘চরম পরিস্থিতিতে’ যুদ্ধ ঘোষণা করার অনুমতি দিয়ে ইসরাইলি ‘নেসেট’ সংশোধিত ওই আইনটি ৬২-৪১ ভোটে অনুমোদন করে।
এর আগে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তার নাটকীয় উপস্থাপনার মাধ্যমে দাবি করেন যে, তার হাতে গোপনে ইরান কর্তৃক পারমাণবিক কর্মসূচী চালিয়ে যাওয়ার প্রমাণ রয়েছে।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ পত্রিকা জানায়, পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটি এবং সংবিধান, আইন ও বিচার কমিটি প্রাথমিকভাবে এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয়। কিন্তু পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় উপস্থানায় নেসেট কর্তৃক এটি অনুমোদিত হয়।
সূত্র: আলজাজিরা
আরো পড়ুন…
হয় মার্কিন শান্তি প্রস্তাব মানো নতুবা চুপ হয়ে যাও, ফিলিস্তিনকে সৌদি যুবরাজ
ফিলিস্তিনিদেরকে হয় আমেরিকার পক্ষ থেকে উত্থাপিত শান্তি প্রস্তাব মেনে নিতে নতুবা চুপ হয়ে যেতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান।
সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে ইহুদি নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ হুমকি দেন বলে ইসরাইলের চ্যানেল টেন জানিয়েছে। গত ২৭ মার্চ ইহুদি নেতাদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানায় আল জাজিরা।
সৌদি যুবরাজ ওই বৈঠকে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি নেতারা গত ৪০ বছরে বারবার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন এবং যত প্রস্তাবই দেয়া হয়েছে তার সবগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন ফিলিস্তিনিদেরকে সেসব প্রস্তাব মেনে আলোচনার টেবিলে আসতে হবে অথবা তাদেরকে চুপ করে থাকতে হবে এবং কোনো অভিযোগ করতে পারবে না।’
মোহাম্মাদ বিন সালমান আরো বলেন, এই মুহূর্তে রিয়াদের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচিগুলোর মধ্যে ফিলিস্তিন ইস্যু নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু রয়েছে- যেমন ধরুন ইরান।’
ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক এতদিন গোপন থাকলেও তরুণ যুবরাজ বিন সালমান তা কলঙ্কজনক মাত্রায় প্রকাশ করে দিচ্ছেন। তিনি এবার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যে হুমকি দিয়েছেন সেরকম হুমকি এতদিন আমেরিকা বা ইসরাইল পর্যন্ত দিতে সাহস করেনি।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল আমেরিকার টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ প্রথমবারের মতো তেল আবিবের সঙ্গে রিয়াদের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন।
বিন সালমান বলেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে রিয়াদের মতবিরোধ ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের পথে একমাত্র বাধা হয়ে রয়েছে।
যুবরাজ মুহাম্মাদ এই বৈঠকে আরো বলেছেন, ফিলিস্তিন সমস্যা তার সরকার বা জনগণের কাছে প্রধান সমস্যা নয়। তাদের কাছে প্রধান সমস্যা হলো ইরান।