
মায়ানমারের ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয়প্রার্থীর মানবেতর জীবনযাপনে বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিদিন গড়ে ৬০ রোহিঙ্গা শিশুর জন্মের মতো জটিল সংকট নিরসনে বিশ্ববাসীর জোরাল অবস্থান চান প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বাংলাদেশ সফররত প্রিয়াংকা চোপড়া গণভবনে দেখা করতে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের এ বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য সোচ্চার হতে জাতিসংঘের হয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি আবেদন রেখে প্রিয়াংকা চোপড়া বলেন, বিশ্বের কোন শিশুরই যেন রোহিঙ্গা শিশুদের মত অবস্থা না হয়।
এ সময়, মায়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার সুযোগ দেয়ায় ইউনিসেফের হয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান জাতিসংঘের এ শুভেচ্ছা দূত।
ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলো থেকে ফিরে বাংলাদেশে ৪ দিনের সফরের শেষ দিনে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নিজের এ বার্তা দেন বলিউড অভিনেত্রী ও শিশু অধিকারে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান অভিনেত্রী প্রিয়াংকা চোপড়া।
কক্সবাজারে আসার পরই রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ক্যাম্পে যান প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তিনি হেঁটে হেঁটে এসব রোহিঙ্গার ঘর দেখেন। এমনকি যে পথ দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রাণ নিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসে সেই পথও তিনি দেখতে যান। গত মঙ্গলবার হাঁড়িখালী এলাকায় যান। সেখান থেকে নাফ নদ ও মায়ানমারের পাহাড় দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার গত চারদিনের অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লাইভ’ করে জানান প্রিয়াঙ্কা। উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দাঁড়িয়েই তিনি কথা বলেন। তিনি নারী ও শিশুদের অবস্থা তুলে ধরেন। সেখানে সারা বিশ্বের বহু মানুষ তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে। তিনি এর উত্তর দেন। এসব শিশুকে সাহায্য
‘লাইভে’ প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘এখানে শৌচাগার ও পানির টিউবওয়েলের জায়গা পাশাপাশি। ফলে বৃষ্টি হলে শৌচাগার থেকে পানি উপচে পড়ে এবং পানি দূষিত হয়ে যায়। এর ফলে নানা রোগজীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।’
ভক্তদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘শিশুদের ধর্ম কী, বাবা-মাকে, এদের পরিচয় কী এগুলো বড় বিষয় না। এখন এদের দরকার আপনার সহানুভূতি।’