
তুরস্কের আসন্ন প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একেপি) নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করেছেন দলটির নেতা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। এতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ জোরদার করার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
রবিবার ইস্তাম্বুলে একেপি’র প্রাদেশিক কংগ্রেসের অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে এই নির্বাচনী ইশতেহার উন্মোচন করেন তিনি।
হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে এরদোগান বলেন, ‘ন্যায় বিচারের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমাদের মূল অগ্রাধিকার এবং ২৪ জুনের পর থেকে এইভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘অর্থনীতি, পাবলিক সার্ভিস, কর্মজীবন, রাজনীতি এবং অন্যান্য সব ক্ষেত্রে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা আমাদের নীতির মূল লক্ষ্য হিসেবে অব্যাহত থাকবে।’
তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘প্রেসিডেন্টশিয়াল সরকার ব্যবস্থায় জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে এবং এর ভিত্তিকে আরো ছড়িয়ে দেয়া হবে, ফলে উপার্জনকারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেকার দূরত্ব দ্রুত কমে আসবে।’
তুরস্ক বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হচ্ছে মন্তব্য করে এরদোগন বলেন, ‘ভবিষ্যতে তুরস্ক একটি বৈশ্বিক শক্তিতে রূপান্তরিত হবে। আমরা হবো একটি নেতৃস্থানীয় শক্তি।’
তিনি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এবং বর্তমান অ্যাকাউন্ট ঘাটতি হ্রাস পাবে। বহিরাগত আক্রমণ এবং আর্থিক আক্রমণের জন্য তুর্কি অর্থনীতি আরো স্থিতিশীল হবে এবং তুরস্কের বিনিয়োগ আবেদন বৃদ্ধি পাবে।’
এরোগান আরো বলেন, নতুন কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্টশিয়াল ব্যবস্থা তুর্কি অর্থনীতিতে নতুন ভরসা দেবে। তিনি নির্বাচনের পর সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতি কমানোর প্রতিজ্ঞা করেন।
শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তিত এই কাঠামো গণতন্ত্রকে আরো মজবুত করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘নতুন এই কাঠামো পার্লামেন্টকে আরো মর্যাদাপূর্ণ করবে। প্রশাসন হবে আরো শক্তিশালী এবং বিচার বিভাগ আরো স্বাধীন হবে।’
অন্যদিকে, এরদোগান ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের জন্য তুর্কিদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও ইউরোপে আঙ্কারার প্রতিদ্বন্দ্বিরা এ বিষয়ে একই দৃঢ় মনোভাব দেখাচ্ছেন না।
এরদোগান ২০০৩ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৪ সালে তুরস্কের প্রথম নির্বাচিত জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে শীর্ষ পদটিতে আসীন আছেন।
২৪ জুনের নির্বাচনে এরদোগান বিজয়ী হলে তিনিই হবেন কার্যনির্বাহী ব্যবস্থার অধীন তুরস্কের প্রথম নেতা।