
প্রেম প্রতারণার স্বীকার যুবতি বিয়ে দাবী করলে প্রেমিক যুবকের পরিবারের হাতে নির্যাতনের স্বীকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রাম এ গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে। মহিপুর বাজার ডিগ্রি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে মানবিক শাখার দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এ মেয়েটির নিজ গ্রামের পাশাপাশি বাড়ীর আব্দুস সামাদের ছোট ছেলে মামুন মিয়া কে ভালোবেসে মন দেওয়া নেওয়া করেছিলো মেয়েটি পরিবারের অজান্তে দীর্ঘ ৪ বছরের প্রেমের এ সময় ক্ষণে বিয়ে প্রলোভনে মেয়েটির সাথে মামুনের শাররিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৯ মে শনিবার রাতে আনুমানিক ২ ঘটিকায় মেয়েটি ঘরে প্রবেশ করে মামুন মিয়া সে সময় মেয়েটির সাথে শাররিক সম্পর্ক মিলিত হয়। এঘটনায় ঘর হতে বাহিরে আসতে ধরে মামুন কে দেখে ফেলে মেয়েটির আপনচাচা। এরপর মামুন ভৌ দৌড় দেয়। রাতেই গ্রামে হৈ পড়ে যায় মুখে মুখে চলে আলোচনা ও সমালোচনা। পরের দিন সকাল বিয়ের দাবী নিয়ে মেয়েটি মামুনের বাড়ীতে অবস্থান নেয় মামুনের পরিবার এসময় মেয়েটিকে ব্যাপক মারধর করে মেয়েটি পরিবার এগিয়ে এলে তাদের কেউ গালি গালাজ ও মারধর করে মামুন ও তার সহোদর ভাই মাসুদ,ভাই বৌ ও বোন । এঘটনার পর সেদিন অত্র এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা আমজাদ ও ইউপি সদস্য আবুল কালাম মামুনের পরিবারের কাছে টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে পরিবারটিকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দেয়। এতেও মেয়েটি ও তার পরিবার বিয়ে দাবীতে অনড় থাকলে পরে আমজাদ ও কালাম আপোষ মিমাংসার কথা বলে মামুনের পরিবারকে দিয়ে মেয়েটিসহ তার পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে। এ অভিযোগের ভিক্তিতে থানার এসআই আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করত পরেরদিন থানায় আসার পরামর্শ প্রদান করে। এরপর আবারো বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ও ভিন্নখাতে নিতে আমজাদ ও ইউপি সদস্য কালাম স্থানীয় কয়েকজন ও মামুনের পরিবার মেয়েটির পরিবার কে হুমকি ধামকি দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। মাতব্বর ও মামুনের পরিবার মেয়েটিকে নানা ভাবে গালিগালাজ করা সহ নানা প্রকার মন্তব্যে কলংঙ্ক লোপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
মামুনের পরিবারের মারধরের কারণে মেয়েটি অসুস্থ্য হয়ে পড়লে মেয়েটিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার। বর্তমানে মেয়েটি গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডের ১১ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মেয়েটি অসুস্থ্য থাকায় তার চিকিৎসা কাজে ব্যস্ত থাকায় থানা যেতে বিলম্ব হয় মেয়েটির পরিবারের।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের নিকট জানা যায়, ঘটনার পরের দিন মেয়েটি বিয়ের দাবী নিয়ে মামুনের বাড়ীতে গেলে মামুনের পরিবার মেয়েটিকে ব্যাপক মারধর করে এতে মেয়েটি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। পরে অসুস্থ্য মেয়েটিকে হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার।
এবিষয়ে মামুনের বাড়ীতে গেলে মামুনে বাবা আব্দুস সামাদ জানান, ঘটনাটি সত্য নয় আমাদের পরিবারকে বেকায়দায় ফেলতে এমন মিথ্যা অভিযোগ করছে মেয়েটি ও তার পরিবার।পরে বাড়ীতে মামুন আছে কিনা জানতে চাইলে সে জানায় মামুন বাড়ীতে নেই সে গাইবান্ধা গিয়েছে। এরপর মামুনের মোবাইল নাম্বার চাইলে তার কোন মোবাইল নেই বলে জানায় আব্দুস সামাদ।
এ বিষয়ে মামুনের সাথে তার ব্যহত মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে জানায় রংপুর রয়েছে পরে এসে কথা বলবে। এরপর আর কিছু বলতে রাজি হয়নি।
এবিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আমজাদ জানায় মেয়েটির চরিত্র খারাপ ছেলেটির পরিবার কে বেকায়দায় ফেলতে ও অর্থ আদায় করতে তারা নানা অভিযোগ করছে।
এদিকে অত্র ইউপি সদস্য কালাম জানান, প্রথমে ঘটনাটি তিনি জানতেন না। পরে ঘটনার খবর পেয়ে থানায় জানায় সে এরপর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পরিবারকে শান্ত করে থানায় যাওয়ার পরামর্শ প্রদান করে। মেয়েটির পরিবার কে আমরা কেউ কোন হুমকি ধামকি দেয়নি। তবে উভয় পরিবার আপোষ মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছি।
সকল হুমকি ধামকি কে ঠেলে গত ২৩ মে মঙ্গলবার মেয়েটির বাবা বাদি হয়ে মামুন ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় অভিযোগ দায়ের করে। আজ ২৪ মে মেয়েটিকে হাসপাতাল হতে থানায় নিয়ে আসে পরিবার এরপর মেয়েটির নিকট বিস্তারিত শুনেন থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম। তিনি মেয়েটির নিকট সব কিছু শুনার পর হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে আসতে বলে মেয়েটির পরিবার কে।
এদিকে ঘটনার পর হতে বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তায় বিচার পেতে মেয়েটির পরিবার সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। মেয়েটির পিতা জানান,আমরা দরিদ্র মানুষ ছেলেটির বাবা পয়সাওয়ালা সে সব কিছু কিনে নিয়েছে এলাকার মাতব্বররা ছেলেটির পক্ষ নিয়ে আমাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিচ্ছে।আমি পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় বসবাস করছি। ঘটনাটির তদন্ত পূর্বক সংশ্লিষ্টদের নিকট বিচার প্রার্থনা করছি।
এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মাহমুদুল আলম জানান,এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি তদন্ত পূর্বক অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।