
তুরস্কের সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুলকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না করতে দেশটির সেনা প্রধান ও প্রেসিডেন্ট এরদোগানের একজন উপদেষ্টা হুমকি দিয়েছেন বলে প্রধান বিরোধী দলের নেতা যে দাবি করেছেন, তা নাকচ করে দিয়েছেন গুল। তবে, তার সঙ্গে তুর্কি সেনা প্রধান জেনারেল হুলসি আকার সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে গুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেনা প্রধান আমার কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে এবং প্রত্যেকের সামনে দিয়েই এসেছিলেন। তাই এটি নিয়ে গোপন করার কিছু ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘বৈঠকের সময় তিনি আমাকে কোনো হুমকি, চাপ বা অসম্মান দেখাননি।’
প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা কেমাল কিলিসদোগল্লু দাবি করেছিলেন যে তুরস্কের শীর্ষ সেনাপতি ও প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা গুলকে প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন নার করতে হুমকি দিয়েছেন। তিনি একই সঙ্গে পার্লামেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ওই বৈঠক সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট বক্তব্য দাবি করেন।
বৃহস্পতিবার দলের পার্লামেন্টারি বৈঠকে কিলিসদোগল্লু বলেন, ‘এধরনের বৈঠক সামরিক অভিভাবকত্ব আরোপের একটি প্রচেষ্টা।’
গত ২৪ এপ্রিল সেনা প্রধান আকার এবং প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের প্রধান উপদেষ্টা ইব্রাহিম কালিন গুলের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকটি সম্পর্কে এই তিনজনের কেউই অস্বীকার করেন নি এবং বিরোধী নেতার অভিযোগের কোনো ব্যাখ্যাও প্রদান করা হয়নি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জল্পনা করা হচ্ছিল যে গুল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এরদোগানের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। কিন্তু ২৪ এপ্রিল এই ধারণার অবসান ঘটান গুল নিজেই। তিনি নির্বাচন করছেন না বলে ঘোষণা করেন।
ইস্তাম্বুলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো ব্যাপক ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয় নি। ইসলাম পন্থী সাদাত পার্টি আমাকে আগামী নির্বাচন প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল।
তিনি আরো বলেন, আমি চাই না আগামী নির্বাচন ঘিরে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তৈরী হোক কারণ অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই আশঙ্কা জনক। এ মুহূর্তে ঐক্যের বিকল্প নেই। তিনি একে পার্টির মধ্যে যারা তার প্রার্থীতার বিষয়ে গুজব ছড়িয়েছে তাদের সমালোচনাও করেন।
উল্লেখ্য, আব্দুল্লাহ্ গুল ২০০১ সালে এরদোগানের সাথে ইসলাম পন্থী একে পার্টি গঠন করেন। ২০১৬ ব্যর্থ অভ্যুত্থানের পর এরদোগানের কঠোর নীতির সমালোচনা করলে এরদোগানের সাথে তার দূরত্ব বাড়ে।