
ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলনে গৃহীত ‘ঢাকা ঘোষণা’ নিয়ে পাকিস্তানের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। সোমবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
গত রবিবার ঢাকায় শেষ হওয়া সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলও অংশ নেয়। কিন্তু সোমবার দুপুরে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, স্বাগতিক বাংলাদেশ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা কিংবা তাদের মতামত না নিয়েই ওআইসি পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলনের পর ‘ঢাকা ঘোষণা’ প্রচার করে।
এতে বলা হয়, স্বাগতিক দেশ সম্মেলন শেষ হওয়ার ঠিক আগে ঢাকা ঘোষণা প্রচার করেছে। এতে শুধু স্বাগতিক দেশের দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাই এর দায় স্বাগতিক দেশকে নিতে হবে, কেননা ঘোষণার সারবস্তু নিয়ে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা কিংবা মতামতও নেয়া হয়নি। ওই ঘোষণা, পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোরাম ও সম্মেলনের দলিলসহ ওআইসির দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করেছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা ঘোষণা’র মূল খসড়া ওআইসি সচিবালয় তৈরি করে। পরে কিছু সদস্য দেশ, ওআইসির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং স্বাগতিক দেশের পরামর্শে অতিরিক্ত অনুচ্ছেদ এতে সংযোজন করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে গৃহীত হওয়ার আগে পরামর্শগুলো যুক্ত করা হয়। তবে পাকিস্তান ঘোষণার ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জানজুয়া
গত ৫ ও ৬ মে ঢাকায় ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের শেষ দিনে দেয়া হয় ৩৯ দফা ঢাকা ঘোষণা। তবে যৌথ ঘোষণার বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পাকিস্তান হাইকমিশন দাবি করছে, সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জানজুয়ার নেতৃত্বে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করেন। তবে এই সম্মেলন সমাপ্তির কিছুক্ষণ আগে যৌথ ঘোষণা সরবরাহ করা হয়।