
তেল আবিব থেকে গুয়েতেমালার দূতাবাস বায়তুল মুকাদ্দাসে স্থানান্তরের প্রতিবাদে দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা ছিন্ন করেছে আরব লীগ।
বুধবার আরব লীগের সচিবালয় থেকে সংস্থার মহাসচিব আহমেদ আবুল গেইতের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনামা গুয়েতেমালার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এতে বলা হয়, মধ্য আমেরিকার এ দেশটির সঙ্গে আরব লীগ ২০১৩ সালে যে সহযোগিতা চুক্তি সই করেছিল তা বাতিল করা হলো।
আমেরিকার পদাঙ্ক অনুসরণ করে গুয়েতেমালা সরকার গত ১৬ মে বুধবার নিজের দূতাবাস তেল আবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে স্থানান্তর করে।
এর আগে গোটা বিশ্বের বিরোধিতা উপেক্ষা করে মার্কিন সরকার গত ১৪ মে জেরুজালেম খ্যাত নগরী বায়তুল মুকাদ্দাসে নিজের দূতাবাস উদ্বোধন করে। ফিলিস্তিনি জাতিসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানায়।
মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের দিন অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরাইলি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। ওইদিনের পাশবিক হামলায় আহত হন আরো ৩,০০০ ফিলিস্তিনি নাগরিক। সূত্র: পার্স টুডে
আরো পড়ুন…
‘গুয়েতেমালার সিদ্ধান্ত বেআইনি ও লজ্জাজনক’
ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়ায় গুয়েতেমালার সমালোচনা করেছে ফিলিস্তিন। ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, গুয়েতেমালা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বেআইনি এবং দেশটির জন্য লজ্জাজনক। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিন।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা বায়তুল মুকাদ্দাসের খ্রিষ্টানদের স্বার্থেরও পরিপন্থী। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবকেও লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
গত রবিবার গুয়েতেমালার প্রেসিডেন্ট জিমি মোরালেস ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোন সংলাপের পর দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে জানাচ্ছি যে, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।’
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ১২৮টি দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে বাতিলের দাবিতে তোলা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়ার তিনদিন পর গুয়েতেমালা এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ওই প্রস্তাবের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলসহ নয়টি দেশ ভোট দেয়।
গুয়েতেমালা এই নয়টি দেশের মধ্যে ছিল এবং মধ্য আমেরিকার এ দেশটি প্রধানত মার্কিন অর্থ সাহায্যের ওপর ভর করে চলে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভোটের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছিলেন, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ভোট দেবে তাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সাহায্য বাতিলসহ নানা ব্যবস্থা নেয়া হবে।