
ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের তালিকা থেকে আট মাস বয়সী শিশুকে বাদ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। লাইলা আল-ঘান্দোরের মৃত্যুর কারণ তদন্ত হচ্ছে বলে কর্তৃক জানিয়েছে।
গত সপ্তাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছিল যে লাইলা আল-ঘান্দোর ১৪ মে বিক্ষোভের সময় ইসরাইলি টিয়ারগ্যাসের কারণে মারা যায়। গাজা সীমান্তে ওই দিনের বিক্ষোভে অন্তত ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল।
পরে নাম না প্রকাশের শর্তে একজন ডাক্তারের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবরে বলা হয় যে, শিশুটি আগে থেকেই অসুস্থ অবস্থায় ছিল এবং এ কারণে তিনি বিশ্বাস করেন না যে টিয়ারগ্যাসের কারণে তার মৃত্যু ঘটেছিল।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ড. আশরাফ আল-কাইদ্রা জানান, বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘শহীদদের তালিকা থেকে লাইলা আল-ঘান্দোরকে বাদ রাখা হয়েছে। কারণ আমরা এখনো প্রকৃত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।’
তিনি বলেন, শিশুটির পরিবার বলছে, বিক্ষোভের সময় সে সীমান্তে ছিল এবং কাঁদানে গ্যাসে তার মৃত্যু হয়েছে। কাঁদানে গ্যাসেই তার মৃত্যু হয়েছে কিনা শুরুতে স্পষ্ট ছিল না। এ কারণেই আমরা বিষয়টি উল্লেখ করেছি।
তিনি বলেন, দুই মাসের বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনারা ১১২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরো পড়ুন…
নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের হত্যায় ইসরাইলি আদালতের সবুজ সংকেত
গাজা উপত্যকায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি স্নাইপারদের তাজা গুলি ছোড়া বন্ধে কয়েকটি মানবাধিকার গোষ্ঠীর আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির আদালত।
এর মাধ্যমে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিদের হত্যায় সবুজ সংকেত দেয়া হয়েছে অবৈধ রাষ্ট্রটির সেনাবাহিনীকে। খবর আলজাজিরা
বৃহস্পতিবার তিন বিচারপতির প্যানেল সেনাবাহিনীর পক্ষ নিয়ে যুক্তি দেখিয়েছে যে বিক্ষোভকারীরা ইসরাইলি সেনা ও নাগরিকদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ইহুদিবাদী রাষ্ট্রটির আদালতের এই রায় ফিলিস্তিনি নিরপরাধ বিক্ষোভকারীদের ওপর তাজা গুলি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
আরব সংখ্যালঘুদের আইনি সহায়তা কেন্দ্র আদালাহ জানিয়েছে, মানবাধিকার কর্মীদের দায়ের করা বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ ও ঘটনা অবজ্ঞা করেছে ইসরাইলি সুপ্রিমকোর্ট। ইসরাইলিরা সেনারা তাজা গুলি ছুড়ে যে নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে, সেই তথ্যপ্রমাণকে কোনো মূল্যায়ন করেনি তারা।
ইয়েশ দিন নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা ইসরাইলি আদালতের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেছে, অব্যাহত হত্যাযজ্ঞ বন্ধের সুযোগ হারিয়েছেন বিচারপতিরা।
১৪ মে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে হাজার ফিলিস্তিনি বিক্ষোভে অংশ নিলে ইসরাইলি সেনারা নির্বিচার গুলি চালায়। এতে ৬২ নিরপরাধ ফিলিস্তিনি নিহত হন।
৩০ মার্চ শুরু হওয়া এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ১১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে ইসরাইলের কেউ হতাহত হয়নি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আহত দুই ফিলিস্তিনি মারা যান।