
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুন্দরবনের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। বিলাসবহুল জাহাজে করে মোংলা বন্দর থেকে পশুর চ্যানেল পরিদর্শনে যাওয়ার পথে রাষ্ট্রপতি সুন্দরবন দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রাশিদা খানম, মেজ ছেলে রাসেল আহমেদ তুহিন ও তার স্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (৫ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত পশুর নদীতে জাহাজে করে রাষ্ট্রপতির এ সুন্দরবন ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করেছেন রাসেল আহমেদ তুহিন।
পশুর চ্যানেল পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি সুন্দরবনের হারবাড়িয়া পর্যন্ত যান। মোংলায় ফিরে এসে তিনি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় ফিরে যান।
বুধবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তৃতীয় সমাবর্তনে যোগ দেন রাষ্ট্রপতি। সন্ধ্যায় তিনি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ৬৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। রাষ্ট্রপতি রাত্রিযাপন করেন বন্দরের রেস্ট হাউস ‘পারিজাতে’।
আরো পড়ুন….
১৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির শপথ
আগামী ১৫ এপ্রিল দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ওদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে স্পিকার শিরীর শারমিন চৌধুরী ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদকে শপথ পড়াবেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেছেন। আবদুল হামিদ এ পদে ১৭তম ব্যক্তি। তবে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন কেবল আবদুল হামিদ একাই। সংবিধানে সর্বোচ্চ দুই বার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সুযোগ থাকায় এটাই হবে তার শেষ মেয়াদ।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি পদে বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান মো. আবদুল হামিদ নির্বাচিত ঘোষণা করে ইসি। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আবদুল হামিদকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।
গত ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন আবদুল হামিদ। সেই মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় গত ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন সিইসি। ৫ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন দাখিলের দিন একমাত্র আবদুল হামিদের মনোনয়নপত্রই জমা পড়ে।
রাষ্ট্রপতির সংসারে ‘অশান্তি’র কারণ সাংবাদিক!
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সমাবর্তন অনুষ্ঠানের সভাপতিও তিনি। রীতি অনুযায়ী লিখিত বক্তব্যও পড়া শুরু করেন। কিন্তু কিছু সময় পরেই তিনি তার স্বভাবসুলভ কথা শুরু করেন। তাঁর হাস্যরস তুমুল করতালি দিয়ে উপভোগ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে অনুষ্ঠানটিতে।
বুধবার খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এভাবেই বলছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য ছেড়ে দিয়ে রাষ্ট্রপতি গল্পের মতো করে কথা বলতে থাকেন।
পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজের অগ্রগতি দেখতে গত ২ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরায় যান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তিনি জানান, তার সঙ্গে তার স্ত্রী ছিলেন না। অথচ পরদিন একাধিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তিনি সস্ত্রীক ছিলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সুতরাং, সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা তো অনেক কিছুতে গোলমাল লাগাইতে পারেন। তবে এ ধরনের পারপাসলেস অনর্থক গোলমাল লাগায়া অন্যের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করা কোনো অবস্থাতেই ঠিক না।’
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘পত্রিকা পড়ে দেখলাম, লেখা আছে রাষ্ট্রপতি সস্ত্রীক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করিয়াছেন। এ নিউজতো আমার স্ত্রীও দেখে ফেলেছে। আসলে আমার স্ত্রী তো আমার সাথে যায় নাই। তার প্রশ্ন হলো, আমার স্ত্রী আবার কে?’
তিনি বলেন, ‘জাজিরা একটা রিসোর্টে ছিলাম (পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করার পর)। শরীয়তপুরের ডিসি (জেলা প্রশাসক) সাহেব ছোট একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন। ভাবলাম, সন্ধ্যায় কোনো কাজ নেই। আইচ্ছা, আধা ঘণ্টা, এক ঘণ্টা গান-বাজনা শুনলে খারাপ কী, ভালোই তো হবে। শুনলাম।
তিনি আরো বলেন, পরের দিন পত্রিকা এখানে পাই নাই। বাসায় গিয়া পত্রিকা পড়ে দেখলাম। লেখা আছে, রাষ্ট্রপতি সস্ত্রীক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করিয়াছেন। এ নিউজতো আমার স্ত্রীও দেখে ফেলছে। আসলে আমার স্ত্রী তো আমার সঙ্গে যায় নাই। তাঁর প্রশ্ন হলো, সে সস্ত্রীক, আমার স্ত্রী আবার কে?… সাংবাদিক ভাইয়েরা তো আজকেও আছেন। দয়া করে লেখাটেহার মধ্যে একটু হুশবিশ কইরা, মানুষের সংসারের মধ্যে গোলমাল লাগায়া দেয়া তো ঠিক না।
তিনি বলেন, আর বিশেষ করে এই বয়সে! একটা বয়স তো আছে, যে বয়সে গোলমাল লাগাইলে একটা, না একটা সুরাহা করা যায়। কিন্তু এই বয়সে তা করারও কোনো উপায় নাই। ফলে আজ কী হয়েছে জানেন? আজকে আমি আর খুলনায় একা আসতে পারি নাই। আমার সঙ্গে আমার স্ত্রীও আসছে। তবে কপাল ভালো উনি এই কনভোকেশনে আসে নাই, উনি ভিসি সাহেবের বাসায় আছেন।
তিনি আরো বলেন, ভিসি সাহেবের বাসায়ও উনি শান্তিতে আছেন বইলা মনে করি না। কারণ এই সভার মধ্যে, সঙ্গে আবার তার ছেলের বউরারে নিয়ে আসছেন। এবং এই মঞ্চের মধ্যে এক ছেলের বউ আছে, পাডাইয়া দিছে। এখানে আমি কী করি! এমন একটা পাহারার ব্যবস্থা করছে, এটা চিন্তা করা যায় না। সুতরাং সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা তো অনেক কিছুতে গোলমাল লাগাইতে পারেন। তবে এ ধরনের পারপাসলেস অনর্থক গোলমাল লাগায়া অন্যের সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করা কোনো অবস্থাতেই ঠিক না।’সূত্র-আরটিএনএন