
সিলেটে মা-ছেলে হত্যার ঘটনায় মামলায় এখন পর্যন্ত নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিলেট পিবিআই’র পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার সকালে কুমিল্লার তিতাস থেকে আসামি তানিয়াকে (২২) গ্রেপ্তার করে সিলেট থেকে যাওয়া পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা। প্রাথমিকভাবে তানিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে একেক সময় একেক কথা বলছে বলেও জানান পিবিআই পুলিশ সুপার ।
রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় তানিয়ার কাথিত স্বামী মামুনকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে কুমিল্লার তিতাসে মামুনের বাড়ি থেকে তানিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে সিলেটে নিয়ে আসা হচ্ছে।
পিবিআই পুলিশ সুপার বলেন, যদিও আমরা এ মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত না, এরপরও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বিশেষ নির্দেশে কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে পিবিআই তানিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। খুনের ঘটনায় জড়িত তানিয়ার নাম বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছিলো। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলায় বলে সংবাদ প্রচারিত হলেও তার বাড়ি কুমিল্লায়।
এদিকে, মা-ছেলে খুনের ঘটনায় রাফি নামে আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৮ এপ্রিল) সকালে নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে আম্বরখানা বড়বাজার এলাকায় বাসিন্দা।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গৌসুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমাণ্ডে আনা হবে। এর আগে গত ৩ এপ্রিল রাতে এ মামলায় নাজমুল নামে এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি পুলিশ। পরদিন ৪ এপ্রিল তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল বিকেলে নগরীর মিরাবাজার খাঁরপাড়া ‘মিতালী ১৫/জে’ বাসার নিচতলা থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৬) মরদেহ এবং মেয়ে রাইসাকে (৫) জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত রোকেয়া বেগম সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর কলকলি গ্রামের হেলাল মিয়ার স্ত্রী। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় বছরখানেক ধরে ওই বাসায় দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন রোকেয়া। ২ এপ্রিল নিহতদের ময়নাতদন্তে ওঠে আসে শরীরে ১০৮টি ধারালো অস্ত্রের কোপ। এরমধ্যে রোকেয়ার শরীরে ৭৬টি ও রোকনের দেহে ৩২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন মিলে। পুলিশের ধারণা, পেশাদার খুনিরা ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে মা-ছেলেকে। একাধিক খুনি অনেক সময় নিয়ে তাদের খুন করেছে।